জুমবাংলা ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করার জন্য বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় আন্তঃজেলা বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে হবে, কোনো অবস্থায়ই টার্মিনালের বাইরে সড়কের ওপরে বাস দাঁড় করানো যাবে না।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরবাসীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান। এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রী সাধারণকে কিছু বিষয় মেনে চলার অনুরোধ করা করেছে পুলিশ।
গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে
১. আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতরে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে হবে, কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে সড়কের ওপরে বাস দাঁড় করানো যাবে না।
২. অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানো যাবে না।
৩. ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাইর হওয়ার রাস্তাগুলোতে কোনোভাবেই গাড়ি পার্কিং করা যাবে না।
৪. বিআরটিসির বাস সংশ্লিষ্ট ডিপো হতে বাইর হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জেলাগুলোতে গমন করবে, কোনোক্রমেই ঢাকা মহানগরী ক্রস করতে পারবে না (যেমন-কল্যাণপুর ও গাবতলী টার্মিনালের বাস গাবতলীর ডিপো হতে সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে চলে যাবে। তদ্রূপ ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপো হতে বাস সরাসরি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে চলে যাবে ইত্যাদি)।
৫. বাসযাত্রার শিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল হতে বাস ছাড়তে হবে।
৬. যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।
৭. যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা যাবে না।
৮. একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রয় করা যাবে না।
৯. বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না।
১০. গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
১১. ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না।
১২. নেশা জাতীয়দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুমভাব ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না।
১৩. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না।
১৪. গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা এয়ারফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং গাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না।
১৫. উল্টো রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে না।
১৬. ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করে গাড়িচালক নিয়োগ করতে হবে।
১৭. চালককে একটানা ৫ ঘণ্টা ও দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না।
১৮. ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী ও লক্করঝক্কর গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।
যাত্রী সাধারণের উদ্দেশে
১. সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না ওঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল/কাউন্টারে গিয়ে উঠতে হবে।
২. অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় নেওয়া যাবে না।
৩. মালামাল নিজ হেফাজতে/দায়িত্বে রাখতে হবে।
৪. বাসযাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার/টার্মিনালে হাজির হতে হবে।
৫. রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ/ আন্ডারপাস/জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে হবে।
৬. চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা যাবে না।
৭. জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোলরুম/জরুরিসেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।
পথচারীদের উদ্দেশে
১. জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে।
২. দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে না।
৩. ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে হবে।
ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।