জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা মার্সিডিজ বেঞ্জ সম্প্রতি তাদের নতুন বিদ্যুৎচালিত সেডান মডেল সিএলএ বাজারে এনেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘ পথ অতিক্রমের সক্ষমতা মাথায় রেখে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে সিএলএ ২৫০ প্লাস সংস্করণটি একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৭৯২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সক্ষমতার পেছনে রয়েছে উন্নত বায়ুগতীয় নকশা এবং শক্তিশালী ৮৫ কিলোওয়াট ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি। সাধারণত বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে একটি গিয়ার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু নতুন এই সিএলএ মডেলে দুটি গিয়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে বাস্তব সড়ক পরিস্থিতিতেও গাড়িটি প্রায় ৬২০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে। এতে দীর্ঘ যাত্রায় চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায়।
গাড়িটিতে শক্তিশালী বিদ্যুৎচালিত মোটর রয়েছে, যা প্রায় ২৭২ অশ্বশক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। এর চলার ধরন বেশ মসৃণ এবং গতি বাড়ার অনুভূতিও স্বাভাবিক। তবে খুব দ্রুত গতিতে ত্বরান্বিত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্যুৎচালিত গাড়ির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে। যদিও দূরত্ব অতিক্রমের দিক থেকে নতুন সিএলএ বেশ এগিয়ে। আগের প্রজন্মের সিএলএ মডেলের তুলনায় নতুন সংস্করণে আরাম ও বিলাসিতার মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ সড়কে গাড়িটি বেশ স্থিরভাবে চলতে পারে। তবে বড় গতিরোধক বা উঁচু বাধার ওপর দিয়ে গেলে কিছুটা ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। যদিও আগের তুলনায় গাড়িটির ভূমি থেকে উচ্চতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, ফলে সাধারণ সড়কে চলাচলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।
গাড়িটির ভেতরের নকশাও বেশ আকর্ষণীয়। সামনে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জের পরিচিত গ্রিল নকশা, যা গাড়িটিকে আলাদা মর্যাদাপূর্ণ চেহারা দিয়েছে। ভেতরে প্রায় ১৪ ইঞ্চি আকারের বড় পর্দা রয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমর্থিত বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া এতে রয়েছে ৮০০ ভোল্টের আধুনিক বৈদ্যুতিক কাঠামো, কণ্ঠ নির্দেশনা সুবিধা, উন্নত মানের শব্দ ব্যবস্থা, মালিশ সুবিধাযুক্ত আসন এবং বাস্তব দৃশ্যের সঙ্গে নির্দেশনা মিলিয়ে দেখানোর পথনির্দেশ ব্যবস্থা।
সামনের আসনগুলো বেশ প্রশস্ত ও আরামদায়ক হলেও পেছনের আসনে জায়গা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম মনে হতে পারে। বিশেষ করে পা রাখার জায়গা আরও একটু বেশি হলে যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক হতো। ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় গাড়িটির সামনে অতিরিক্ত সংরক্ষণ স্থান রয়েছে এবং পেছনে প্রায় ৪০৫ লিটার ধারণক্ষমতার মালপত্র রাখার জায়গা দেওয়া হয়েছে, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।
সব মিলিয়ে নতুন বিদ্যুৎচালিত সিএলএ বিলাসিতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সক্ষমতার একটি শক্তিশালী সমন্বয়। যদিও এটি বাজারের সবচেয়ে দ্রুতগতির বিদ্যুৎচালিত সেডান নয় এবং পেছনের আসনে জায়গা আরও কিছুটা বেশি হলে ভালো হতো, তবুও এর সুবিধা, কর্মক্ষমতা ও দূরত্ব অতিক্রমের ক্ষমতা বিবেচনায় গাড়িটি নিজের দামের যথেষ্ট মূল্য দেয়। সেডান হিসেবে এটি মার্সিডিজ বেঞ্জের আগের এ শ্রেণি বা সি শ্রেণির মডেলের তুলনায় অনেক দিক থেকেই উন্নত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


