জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, তাদের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদকদের অধিকার সংরক্ষণেও তারা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে জাতীয় যুবশক্তির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ছায়া বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, আগামী ৭ জুন থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার একটি সংকটাপন্ন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি এখনও ব্যাপকভাবে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর জ্বালানি আমদানিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যে অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছে, তা মূলত লুটপাট ও ক্যাপাসিটি চার্জনির্ভর ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
এনসিপির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ব্যাংকিং খাত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও পরিবারের স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। এনসিপি এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায়, যার মাধ্যমে ব্যাংক খাতকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে এবং এটিকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও আত্মনির্ভরশীল খাতে রূপান্তর করা যাবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একসময় দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল। তবে সেই অবস্থান থেকে বিএনপি সরকার বর্তমানে সরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।
কর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, কর প্রদান রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবামূলক খাতগুলো যেন প্রকৃত অর্থে মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সংখ্যার হিসাবনির্ভর বা কাগুজে বাজেট নয়, এমন একটি বাজেট প্রয়োজন যার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। বাজেটের প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ এবং উপপ্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল ‘ছায়া বাজেট ২০২৬-২৭’ উপস্থাপন করেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



