নেক আমল নেক আমলের সহায়ক হয়, আর পাপ কাজ পাপ কাজকে বাড়িয়ে তোলে। একটি ভালো কাজ মানুষকে আরও ভালো কাজের দিকে নিয়ে যায়। পক্ষান্তরে একটি গুনাহ করলে তা মানুষকে আরও গুনাহের পথে ঠেলে দেয়। যেমন, কারও জীবনের ক্ষতি করার ইচ্ছা হলে সে শুধু একটি কাজেই থেমে থাকে না; বরং অস্ত্র জোগাড় করা, পরিকল্পনা করা, অর্থ সংগ্রহ করা—এভাবে একের পর এক পাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে একটি নেক কাজও বহু নেক কাজের পথ খুলে দেয়।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি কোনো ধর্মীয় মজলিসে আসার নিয়ত করে, তাহলে তাকে আসার জন্য কিছু ভালো কাজ করতে হয়। রাস্তা অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছানো, মজলিসে উপস্থিত হওয়া, ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করা—এসবই পৃথক পৃথক নেক আমল হিসেবে গণ্য হয়। এরপর সে যখন বাড়ি ফিরে গিয়ে সেই শিক্ষা অনুযায়ী আমল করে এবং অন্যকে উপদেশ দেয়, তখন সেই একটি নিয়ত থেকে বহু নেক কাজের জন্ম হয়।
মানুষের প্রতিটি নেক কাজ তাকে আরও নেক কাজের দিকে আকৃষ্ট করে। আবার, প্রত্যেক মানুষের কোনো না কোনো নির্দিষ্ট নেক আমলের প্রতি বিশেষ আগ্রহ থাকে। তাই জান্নাতে যাওয়ার সময় আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার পছন্দের আমলের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে প্রবেশ করাবেন।
অন্যদিকে, পাপীরা ও তাদের অনুসারীদের একত্র করা হবে। আল্লাহ তাদেরকে এবং তাদের উপাস্যদেরও একত্র করবেন। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর উপাসনা করেছে, তাদের সবাইকে সেদিন জবাবদিহির জন্য হাজির করা হবে। তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা কেন একে অপরকে সাহায্য করছ না? সেদিন তাদের কোনো বন্ধু বা সাহায্যকারী থাকবে না।
অনেকেই ভাবেন, যাদের আমরা দুনিয়ায় ভালোবাসি—সন্তান, আত্মীয়—তারা বিপদের সময় সাহায্য করবে। কিন্তু কিয়ামতের দিন সবাই নিজের অবস্থায় এতটাই ব্যস্ত থাকবে যে কেউ কারও দিকে তাকানোর সময় পাবে না।
একটি হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষ এমন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, যা দুনিয়ার যেকোনো কষ্টের চেয়ে ভয়াবহ। এমনকি প্রসব বেদনার কষ্টও সেদিনের কষ্টের তুলনায় কিছুই মনে হবে না। সেদিন সবাই নিজ নিজ অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, কেউ কারও দিকে তাকাবে না।
সেদিন মানুষ একে অপরকে দোষারোপ করবে। কেউ বলবে, তুমি আমাকে ভুল পথে নিয়ে গিয়েছ। সন্তান তার পিতা-মাতাকে দোষ দেবে, ছাত্র তার শিক্ষককে দোষারোপ করবে, অনুসারীরা তাদের নেতাদের দোষ দেবে। কিন্তু এই অভিযোগের কোনো ফল হবে না। সবাই নিজ নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে।
অনেকে অন্ধভাবে কোনো ব্যক্তির অনুসরণ করে, আবার মনে করে শুধু সেই ব্যক্তির সাথে থাকলেই তারা জান্নাতে চলে যাবে। কিন্তু কেবল অনুসরণ করলেই মুক্তি পাওয়া যায় না। সত্যিকারের মুক্তির জন্য প্রয়োজন সঠিক বিশ্বাস ও সৎকর্ম।
শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষকেই নিজের কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমাদের উচিত সবসময় ভালো কাজ করা, পাপ থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর পথে চলা। কারণ নেক কাজ মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, আর গুনাহ মানুষকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।
লেখক: আল্লামা মাহমুদুল হাসান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


