সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বিপুল ভোটে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই মন্ত্রিত্ব লাভের খবরে মানিকগঞ্জ জেলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য বার্তা প্রকাশ করেন নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও মন্ত্রী হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আতাউর রহমান আতা বলেন, “এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদ সদস্য এবং পরে মন্ত্রী হয়েছেন। তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই।”
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদনূর বলেন, “আলহামদুল্লিাহ তিনি মন্ত্রী হয়েছেন, আমরা আনন্দিত ও খুশি হয়েছি। তাঁকে স্বাগতম জানাই। শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে তিনি মানিকগঞ্জবাসী তথা সকলের সেবা করতে পারেবন এটাই কামনা করছি।”
আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহজাহান আলী সাজু বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব লাভ করেছেন। তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই। তবে আমরা যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, তারা রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ চালিয়ে যাব।”
এছাড়া, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে আগমন লক্ষ্যণীয়। এ ধারা রাজনীতির জন্য কিছুটা হলেও ক্ষতিকর ভূমিকা রাখছে। তবে মানিকগঞ্জ জেলার একজন সংসদ সদস্যের মন্ত্রীত্ব অর্জন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এতে জেলাবাসী কিছুটা হলেও সুফল ভোগ করবে বলে আমি আশাবাদী। মানিকগঞ্জের একজন সন্তান হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আফরোজা খানম রিতার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে মফিজুল ইসলাম খান কামাল, রফিকুল ইসলাম খান এবং সামসুদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য বা মন্তব্য জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর এই আসনে আফরোজা খানম রিতা প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আফরোজা খানম রিতা বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


