লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকা দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক বলে জানা গেছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় বলে শনাক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার সূত্র।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতদের পরিবার জানায়, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), সাজিদুর রহমান (৩২), শাহান এহিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪৫) নিহতদের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) এবং জগন্নাথপুর উপজেলার আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বাউরি গ্রামের মো. সুহানূর, টিয়ারগাও গ্রামের শায়েখ আহমেদ ও মো. আলি, কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম এবং পাইলগাও গ্রামের আমিনুর রহমান রয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত জীবনের আশায় তারা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। নিহত ফাহিম আগে সৌদি আরব থেকে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দক্ষিণ সুদান ও চাদের নাগরিকও রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া দুইজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নৌকায় থাকা অনেক মৃতদেহ ইতোমধ্যে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহায়তা কামনা করেছে। এদিকে, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা দিরাই উপজেলার চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


