সাইফুল ইসলাম : পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার সরকারি অফিস খুললেও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও ছুটির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। আবার কেউ কেউ ছুটির আবেদন দিয়েই অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অফিসে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে উপস্থিত পাওয়া যায়।
তবে একই সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু আজম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, আইসিটি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান এবং সমবায় কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া।
আইসিটি অফিসের অফিস সহকারী মোবারক হোসেন জানান, আইসিটি কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন এবং জেলা অফিসে ছুটির আবেদন করেছেন। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
সাড়ে ৯টার দিকে জেলা বিএডিসি কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। এরপর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. বাহাউদ্দিনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। ৯টা ৩৮ মিনিটে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফকেও পাওয়া যায়নি।
পৌনে ১০টার দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ফাতিমা ফেরদৌসকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি দুই দিনের ছুটিতে আছেন। বিয়ের পর প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ায় ফিরতে দেরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলমকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী অফিসে না থাকলেও একটি অফিসিয়াল মিটিংয়ে ছিলেন বলে জানা যায়। সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলামও তখন পর্যন্ত অফিসে আসেননি।
সকাল ১০টার দিকে জেলা সমন্বিত ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস বন্ধ। সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া অনুপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোছা. রৌশন আরা বেগম, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা এ কে এম হাসিবুল হাসান এবং বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা শামছুন নাহার।
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের দপ্তরে। কর্মকর্তা মো. বুলবুল ইসলাম অনুপস্থিত থাকলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল হালিম তার চেয়ারের পাশে বসে অফিসের ল্যাপটপ ব্যবহার করছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মর্জিনা ইয়াসমিন এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল বাতেনও অফিসে ছিলেন না। জানা যায়, বদলির আদেশ ঠেকাতে আব্দুল বাতেন ঢাকায় বিভাগীয় কার্যালয়ে গেছেন বলে একটি সূত্র দাবি করে।
সকাল ১০টার দিকে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে গিয়ে সহকারী পরিচালক মো. আওলাদ হোসেনকে উপস্থিত পাওয়া গেলেও জনশক্তি জরিপ কর্মকর্তা লিনিয়া আফরোজ রেশমা তখনও আসেননি। তিনি ১০টা ১২ মিনিটে অফিসে পৌঁছান।
পরবর্তীতে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে গিয়ে জানা যায়, উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ছুটিতে রয়েছেন।
বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভায় গিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেনকেও অনুপস্থিত পাওয়া যায়। অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী আজ অফিসে আসবেন না।
তবে এর মধ্যেও অনেক কর্মকর্তাকে নিয়মিত অফিস করতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা সঞ্চয় ব্যুরোর সহকারী পরিচালক কে এম রাজিবুল হাসান, জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মিনার উদ্দীন, বীজ প্রত্যয়ন কার্যালয়ের বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা ফেরদৌসী, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাকিয়া আখতার, বিএডিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাফরান এবং মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. মো. বদরুল ইসলাম।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারহানা ফেরদৌসী বলেন, “আমি সাড়ে আটটায় অফিসে এসে নিজে অফিস খুলেছি। তখন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। সময়মতো অফিসে আসতে বললে অনেকেই বিরক্ত হন এবং নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান।”
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল বাতেন মুঠোফোনে জানান, তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় বিভাগীয় কার্যালয়ে গেছেন।
এছাড়া মানিকগঞ্জে আরও অনেক সরকারি দপ্তর থাকলেও সবগুলোতে সরেজমিনে উপস্থিতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সেসব দপ্তরের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


