ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় রহস্যের জট যেন কিছুতেই খুলছে না। ময়নাতদন্ত, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর এবার নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ইকরার ফেসবুক আইডি উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায়। শুধু আইডি গায়েব হওয়াই নয়, ইকরার যুক্ত থাকা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে তার পাঠানো পুরোনো মেসেজগুলোও সুকৌশলে মুছে ফেলা হচ্ছে। কে বা কারা এই কাজ করছে, তা নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, মামলার তদন্ত অন্যদিকে ঘোরাতে এবং ইকরার করা অভিযোগের সত্যতা আড়াল করতেই কেউ হয়তো সুপরিকল্পিতভাবে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এর আগের রাতে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ১৩ মিনিটে নেপালে শুটিংয়ে থাকা যাহের আলভী ফেসবুকে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না।” এর জবাবে স্ত্রী ইকরা লিখেছিলেন, “অভিনন্দন… আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?” এই স্ট্যাটাস চালাচালির কয়েক ঘণ্টা পরই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ইকরা।
ইকরার মৃত্যুর পরপরই তার বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশা ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারের কিছু চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস করেন, যা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফাঁস হওয়া সেই চ্যাট থেকে জানা যায়, স্বামী যাহের আলভী তার সহ-অভিনেত্রী ‘তিথি’র সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। সন্তানের মায়া ও সংসারের কথা ভেবে ইকরা বারবার আলভীকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আলভী ও ওই অভিনেত্রীর চরম অবহেলা এবং মানসিক নির্যাতনে বিপর্যস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
এই ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় হাসপাতালে। ইকরার নিথর দেহ মর্গে পড়ে থাকলেও সেখানে যাহের আলভীর পরিবারের কেউ আসেননি। এমনকি ইকরার একমাত্র শিশুপুত্র রিজিককেও মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইকরার মরদেহ তার নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের ভালুকার রানদিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
একমাত্র মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইকরার বাবা। তিনি গণমাধ্যমের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় তার অল্পবয়সী মেয়েকে আলভীর মা জোর করে বিয়ে করিয়েছিলেন। মেয়ের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে তিনি শাশুড়ির কাছে মেয়েকে ‘ভিক্ষা’ চাইলেও তারা শোনেননি। এই মৃত্যুর জন্য তিনি সরাসরি আলভী ও তার মাকে দায়ী করেন।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে যাহের আলভী, সহ-অভিনেত্রী তিথি এবং আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে, এতসব ঘটনার মাঝে মূল অভিযুক্ত যাহের আলভীর অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। জানা গেছে, রবিবার বিকেলে নেপাল থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে কিছু সময় অবস্থানের পর অজ্ঞাত একজনের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তার ফোন ও ফেসবুকসহ সব যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রয়েছে। মামলার এজাহার ইমিগ্রেশনে পাঠানো হলেও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি কোথায় আত্মগোপন করেছেন, তা নিয়ে পুলিশও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।
সূত্র ও ছবি : কালবেলা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


