মনির হোসেন : লাখ লাখ টাকা খরচ করে বৈধ উপায়ে ভিসা সংগ্রহ করার পরও অনেক শ্রমিক যথাসময়ে কানাডা, ইতালি, রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে পারছেন না। অনেকের আবার ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার কাকরাইলের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বহির্গমন শাখা থেকে এসব ইউরোপগামী শ্রমিককে বহির্গমন ছাড়পত্র না দেয়ার কারণে তাদের বিদেশযাত্রা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Advertisement

তবে জনশক্তি ব্যুরোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো শ্রমিক ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার পর যাতে ফেরত না আসতে হয়, সে ব্যাপারে নিয়োগকারী কোম্পানির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হবে। এতে অনেকেই প্রতারিত হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন বলে তারা বলছেন। এর জন্য তারা দূতাবাসের মেইলের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইউরোপের জনশক্তি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্তরা বলছেন, দুই সপ্তাহ ধরে ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য কয়েক হাজার শ্রমিক বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণের অপেক্ষা করছেন; কিন্তু ভিসার আবেদনসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দেয়ার পরও কারণ ছাড়াই কোনো শ্রমিককে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না। এতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ভিসা সংগ্রহ করে অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এসব বিদেশগামী শ্রমিক।

ইউরোপগামী শ্রমিকদের ভিসা প্রসেসিংকারী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ সেলিম বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, আমরা শ্রমিকদের প্রসেসিং করানো বাবদ ৫০০-১০০০ টাকা খরচ নিয়ে থাকি। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউরোপগামী শ্রমিকদের ফাইল বিএমইটির বহির্গমন শাখায় জমা দেয়ার পরও একটি শ্রমিকের নামেও ক্লিয়ারেন্স হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতদিন আমরা দূতাবাসের কোনো ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই বহির্গমন করাতে পারতাম; কিন্তু এখন তারা শর্ত দিয়েছেন, আগে ওই শ্রমিকের নামে দূতাবাস থেকে মেইল আসতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দূতাবাস থেকে কর্মীর কোম্পানিসহ অন্যান্য বিষয় জানার আগেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তখন এই লাখ লাখ টাকার ভিসার কী হবে? এসব বিবেচনা না করেই তারা আগে দূতাবাস থেকে ক্লিয়ারেন্স না এলে বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ইউরোপের শ্রমবাজার নতুন। তা ছাড়া ওই সব দেশে কর্মী যাওয়ার পর ফেরত এসেছে এমন নজিরও নেই। তারপরও নতুন নতুন যেসব আইন করা হচ্ছে তাতে ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

এই বিষয়ে জানতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সালেহ আহমদ মোজাফফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, দূতাবাসের মেইল না আসা পর্যন্ত আমরা বিএমইটি থেকে কোনো শ্রমিকের নামে বহির্গমন ছাড়পত্র দেবো না। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে তখন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যদি কানাডা, ইতালি, রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোর দূতাবাসে মেইল পাঠানোর পরও সেখান থেকে কোনো ক্লিয়ারেন্স না পাই তখন আমরা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ দেখব। এরপর আমরা ওই শ্রমিকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বহির্গমন ছাড়পত্র দিয়ে দেবো। এখন আমরা দূতাবাসের মেইলের অপেক্ষায় আছি বলে জানান তিনি।

একজন নারী জনশক্তি ব্যবসায়ী বলেন, বিএমইটির কিছু কর্মকর্তা বিদেশগামী শ্রমিকদের যাওয়ার ক্ষেত্রে যদি একটার পর একটা জটিলতা বের করতে থাকেন তাহলে বিদেশ যাওয়ার হার কমতে থাকবে। তিনি বলেন, এবার শুধু ইউরোপগামী নয়, ৮৪টি দেশে পাড়ি জমানো শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আগে দূতাবাস থেকে মেইল আসতে হবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটির দায়িত্বশীলদের দ্রুত বিবেচনা করার অনুরোধ তার। নতুবা হাজার হাজার ভিসা বাদ হয়ে যাবে বলে এই পেশার সাথে জড়িতরা আশঙ্কা করছেন।

গতকাল জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমার জানা মতে এ পর্যন্ত ইউরোপের উদ্দেশে যত শ্রমিক বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের একজনও দেশে ফেরত আসেননি। তাই আটকে থাকা শ্রমিকদের বহির্গমন ছাড়পত্র দ্রুত দেয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি। শ্রমিক যত যাবে তত রেমিট্যান্স আসবে। এটাই আসল কথা। সেভাবেই আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি। সূত্র : নয়া দিগন্ত

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.