মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গ্রাহকদের মধ্যে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদের প্রবণতা বেড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুদ করে দেশে জ্বালানিসংকটের সৃষ্টি করছে। অবৈধ জ্বালানি মজুদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদের তথ্য দিলে এক লাখ টাকা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অবৈধ জ্বালানি মজুদ রোধে ও তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতে চলতি এপ্রিল থেকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে সরকার।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলে জ্বালানি বিতরণ করা হবে। কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে দ্রুত এই পদ্ধতি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিবন্ধিত যানবাহন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করতে পারবে।
নিবন্ধিত প্রতিটি যানবাহনকে একটি করে কিউআর কোড প্রদান করা হবে। এটি একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গ্রাহককে অ্যাপের মাধ্যমে নিজের পরিচয় এবং যানবাহনের নিবন্ধন তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করে নিতে হবে।
এর পর ওই যানবাহনের জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে। ফুয়েল পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী মোবাইল ফোন দিয়ে সেই কোডটি স্ক্যান করবেন। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই যানবাহনের জ্বালানি নেওয়ার তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে।
কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটুকু জ্বালানি কেনা যাবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে অন্য কিছু দেশে চালু থাকা এ রকম ব্যবস্থায় সাধারণত মোটরসাইকেল সপ্তাহে প্রায় পাঁচ লিটার এবং গাড়ি প্রায় ১৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি কিনতে পারে।
নির্ধারিত সীমা শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগে সেই যানবাহনকে আর জ্বালানি দেওয়া যাবে না। সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি আটকে দেবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাড়তিও নেওয়া যায়।
ইতিমধ্যে একটি অ্যাপস ডেভেলপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে দুই-একটি জায়গায় টেস্ট হিসেবে এটি চালু করতে পারব। একসঙ্গে সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা সহজ নয়। তাই প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন লক্ষ্য করে দ্রুত একটি কার্যকর পর্যায়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, দেশের কয়েকটি জেলায় জ্বালানি বিক্রি নিয়ন্ত্রণে ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড চালু করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে পেট্রল ও অকটেন কেনার ক্ষেত্রে এই কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ ছাড়া জ্বালানি মজুদ রোধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অসাধ্য ব্যবসায়ীদের মজুদ করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


