গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে একটি বড় উদ্যোগের পথে হাঁটছে ইন্দোনেশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় অঞ্চলটিতে কমপক্ষে ৮ হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারা জানায়, সম্প্রতি দেশটির সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক এবং প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এই সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গণমাধ্যমকে বলেন, যদি কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতার ভিত্তিতে গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়, সে ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া যেন সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে—এ লক্ষ্যেই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই সেনাদলটি গাজায় গঠিত হতে যাওয়া বহুজাতিক ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ)-এর প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো বাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য থাকার কথা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য হবে গাজায় শান্তি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিশ্চিত করা। এর আগে গত নভেম্বরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গাজায় স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার জন্য ২০ হাজার সেনাকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে গাজায় ১০ হাজার টন চাল পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুমাত্রা ও কালিমান্তান অঞ্চলে বিশেষ কৃষি প্রকল্পও চালু করেছে দেশটি।
তবে এই শান্তি মিশন নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা ও বিতর্ক দুটোই তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় ইসরায়েলি দখলদারিত্ব দীর্ঘায়িত করতে পরোক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা উদ্দেশ্য নেই; এটি সম্পূর্ণভাবে মানবিক বিবেচনায় পরিচালিত হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


