বিশ্বকাপ ফুটবল শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, আনন্দ ও কষ্টের এক বিশাল মঞ্চ। সেই মঞ্চেই নিজের সংগ্রাম আর পরিশ্রমের গল্প লিখে আলোচনায় এসেছেন ঘানার গোলরক্ষক বেনজামিন আসারি।

৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের নাম এখন ঘানার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পানামার বিপক্ষে ম্যাচে ঘানার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক আতি জিগি ইনজুরিতে পড়লে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আসারি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার বিশ্বমঞ্চের যাত্রা।
আসারি ঘানার ঘরোয়া ক্লাব হার্টস অব ওক-এর হয়ে খেলেন। তিনি ঘানার ইতিহাসে প্রথম গোলরক্ষক, যিনি ঘরোয়া লিগে খেলে সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছেন। এবারের স্কোয়াডে তিনিই ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড় যিনি নিজ দেশের স্থানীয় লিগ থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেন।
জাতীয় দলের কোচ কার্লোস কুইরোজ বিশ্বকাপের আগে পাঁচজন গোলরক্ষক নিয়ে কাজ করেন, যাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়—তাদের একজন আসারি।
আসারির জনপ্রিয়তা প্রথম বাড়ে ২০২৫ সালের মে মাসে। তখন ঘরোয়া লিগে ভালো পারফর্ম করলেও তিনি সাধারণ মানুষের মতোই পাবলিক বাসে যাতায়াত করতেন। তার এই যাত্রার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরে এক সমর্থকের উদ্যোগে তিনি একটি গাড়িও উপহার পান।
এরপর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে পানামার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। এছাড়া তিনি দেশের ঘরোয়া ফুটবলের বড় ডার্বি ম্যাচে আসান্তে কোটোকোর বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন, যেখানে তিনি কোনো গোল হজম না করে ম্যাচ সেরা হন। তবে পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন একটি বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি ও একটি হিউমিডিফায়ার।
একটি সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে খেলার এই যাত্রা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়—এটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়ারও একটি সুযোগ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



