আগামীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে, দেশ সেবার সুযোগ পেলে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এই অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে প্রথমে দুটো কাজ করা হবে। চাঁদাবাজদের হাত শক্ত করে ধরবো, তারপর সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করে দেব। কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব রাখা হবে না।’
ডা. শফিক বলেন, ‘বিগত সময়ে সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। তাই সাতক্ষীরার চারটি আসন ন্যায়, ইনসাফ, জনগণের সরকার ও মদিনার শাসন আমলের সুশাসন কায়েম করার জন্য আপনারা যদি আমাদের উপহার দেন তাহলে আপনাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো। এই ঋণ পরিশোধ করার জন্য পুরো সময়জুড়ে আমরা চেষ্টা করবো।’
আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধান করবো জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওপর থেকে কিছুই চাপিয়ে দেয়া হবে না। এইটুকু আমরা নিশ্চয়তা দিতে পারি, আল্লাহ যদি তার মেহেরবানিতে আপনাদের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ আমাদের দেন, তাহলে কোনো শিক্ষিত চোর আপনাদের কোনো অংশ খেয়ে ফেলতে পারবে না।’
এই দুঃখী বাংলাদেশের সম্পদ লুট করে কিছু লোক কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত জনগণের সেবক হয়েছেন। তারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছেন বলে জানান ডা. শফিক।
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে শাসন হবে জনগণের শাসন। এজন্য চিৎকার দিয়ে বলছি আমরা জামায়াত ইসলামের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি আমাদের মুক্তি। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম সিলটি পড়বে হ্যাঁ ভোটে। হ্যাঁ অর্থ আজাদি, না অর্থ গোলামি। আপনারাই বলুন গোলামি না আজাদি। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। হ্যাঁ ভোট হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আল্লাহ সুযোগ দিলে দীনের নির্দেশনায় দেশ চালানো হবে। মুসলমানদের মধ্যেও অনেক মতামত আছে। অনেক কিছু মেলে না। তবে সুযোগ পেলে সবাইকে নিয়ে বসে কমন বোর্ড করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
ইনসাফের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর জন্য সাতক্ষীরাবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মানের সঙ্গে সব শ্রেণি-পেশার রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁচার পরিবেশ করে দেব। যারা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের স্যালারি হবে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ তাদের বেতন কাঠানো চরম বেইনসাফি।’
ইনসাফ মানে এটা নয় যে সবাইকে সমান দিতে হবে। ইনসাফ মানে সবাইকে তার ন্যায্য পাওনা দিতে হবে। আমরা সেটাই করবো বলে জানান ডা. শফিক।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশের সঙ্গে আছি। সংস্কার যারা মনে প্রাণে চাইবে আমরা তাদের সঙ্গে আছি। ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জানিয়ে দিয়েছেন তারা ইনসাফের পক্ষে।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘যুবকদের হাতে আমরা বেকার ভাতা তুলে দেব না। আমরা মনে করি তাদের হাতে বেকার ভাতা দেয়া মানে তাদের অপমান করা। যুবকরা সম্মানের সঙ্গে লড়াই করে দেশ গড়তে চাই। সেই যুবকদের হাত আমরা দক্ষ নাগরিক, দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করবো।’
যুবকদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং এর দায়িত্ব পালন করবে রাষ্ট্র জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। তখন তারা বলবে আমরা গর্বিত নাগরিক।’
ভারতকে ইঙ্গিত করে ও আইসিসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীদের আমরা বন্ধু হিসাবে দেখতে চাই। প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কাউকে প্রভু হিসেবে আসতে দেব না।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জনসভায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন: জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহা. ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহা. আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী হাফেজ রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


