ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনা সম্প্রতি কাতারে পরিবার নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছেন। সেখানে তিনি ছোট পরিসরে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন এবং সন্তানকে ভর্তি করেছেন স্কুলে। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘুম থেকে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকেই তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বিষয়টি অভিনেত্রীকে বিস্মিত ও বিব্রত করেছে।

জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি। সুরভী বেগম নামের এক নারী নিঝুম রুবিনা ও তার স্বামী মামুনুর রশীদ রাহুলসহ আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালত ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে কেউ হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক ভিডিও বার্তায় নিঝুম রুবিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বাদীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং মামলার বিষয়ে আগে কোনো ধারণা ছিলেন না। তিনি বলেন, আমি ফেসবুকে ঢুকে জানতে পারলাম আমার নামে মামলা হয়েছে। যেখানে আমি সরাসরি জড়িত নই, সেখানে এভাবে মামলা দিয়ে আমার মানহানি করা হচ্ছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা ধার নেয়া হয়, যা দুই মাসের মধ্যে ফেরত দেয়ার শর্তে লিখিত চুক্তি হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধ না হওয়ায় বাদী আদালতের দ্বারস্থ হন।
নিঝুম রুবিনা জানিয়েছেন, এই লেনদেনটি মূলত তার স্বামীর মাধ্যমে করা হয়েছিল এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সুদে নেয়া অর্থ ছিল। প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছিল। বিষয়টি তিনি জানতে পারেন গত বছরের অক্টোবর মাসে। পরে সংশ্লিষ্ট নারী তাদের বাসায় এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তিনি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
নিঝুম রুবিনার ভাষ্য, রামপুরা থানায় পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, নগদ দুই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং বাকি নয় লাখ টাকা দুই ধাপে গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের মার্চে পরিশোধের কথা ছিল। তিনি দাবি করেন, ডিসেম্বর মাসে সাড়ে চার লাখ টাকার একটি চেক প্রস্তুত রাখা হলেও বাদীপক্ষ তা গ্রহণ করেননি। হঠাৎ করে পুরো নয় লাখ টাকা একসঙ্গে দাবি করা হয়, যা তার মতে অযৌক্তিক ও চুক্তিবিরুদ্ধ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই ঘটনার ফলে তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং পাল্টা মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


