জুমবাংলা ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় রেমালের ভয়াবহ তাণ্ডব থেকে ফের উপকূলকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এ ম্যানগ্রোভ বনের কারণেই উপকূল এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের পানি, দমকা বাতাস প্রবল বেগে প্রবেশ করতে পারে না।

ঘূর্ণিঝড়

Advertisement

ঘূর্ণিঝড় রেমালের ছোবল থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় সুন্দরবন যে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে, সোমবার (২৭ মে) সকালে এমনটাই জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব ও পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহি।

তিনি বলেন, উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘূর্ণিঝড় রেমালের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার, কিন্তু সুন্দরবনের গাছপালার কারণে সেটির প্রভাব ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের মতো অনুভূত হয়।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলের জন্য সুন্দরবন যেন একটি দেওয়াল। সুন্দরবনের জন্যই প্রতিবছর বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায় সাতক্ষীরা উপকূল। তবে এই সুন্দরবন রক্ষার জন্য কারোর কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি সুন্দরবন রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সুন্দরবন না থাকলে সাতক্ষীরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে বড় ধরণের তাণ্ডব হতে পারতো বলেও মনে করেন করেন তিনি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘সুন্দরবনের কারণেই ঘূর্ণিঝড়ের বড় ধরনের আঘাত ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে সাতক্ষীরা উপকূল।’

আবহাওয়া অফিস বলছে, রবিবার (২৬ মে) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এরপর এটি সুন্দরবনের খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলাসহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে প্রবল শক্তির এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সাতক্ষীরা উপকূলে সেভাবে পড়তে পারেনি সুন্দরবনের গাছপালায় কারণে। বনে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ যেখানে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার ছিল, সেটা বন পার হয়ে লোকালয়ে যেতে যেতে শক্তি হারিয়ে দমকা বাতাসে রূপ নেয়। এ ছাড়া জলোচ্ছ্বাস লোকালয়ে পৌঁছানোর আগে সুন্দরবনে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় ঢেউয়ের উচ্চতা অনেক কমে যায়। এ কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তেমন থাকে না।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মূলত সুন্দরবনের ওপর দিয়ে দুই ধরনের ধাক্কা যায়। প্রথমত তীব্রগতির বাতাস ও এরপর জলোচ্ছ্বাস। উপকূলীয় এলাকা থেকে বড় বড় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে এর আগেও ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সুন্দরবন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডব থেকে এই বন উপকূলকে রক্ষা করেছে। যদিও সেই দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছিল বনাঞ্চল।

এ দিকে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এ কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘ আমার ধারণা এবারের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বন্য প্রাণীদের ওপর বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। কেননা সুন্দরবনে যে সময়টায় জোয়ার হয়, সে সময়ে ঘূর্ণিঝড় আঘাত করেনি। যার কারণে এবার পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চাইতে খুব একটা বেশি ছিল না। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, এবারে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি তেমন একটা হয়নি।’

বিজয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের জড়িয়ে ধরে শাহরুখের উচ্ছ্বাস

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলি বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে আশঙ্কামুক্ত উপকূলীয় এলাকা। নতুন করে ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা নেই।’

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.