মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা, শক্তিশালী ডলার এবং তেলের দাম বাড়ার চাপে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থবির থাকায় বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি মূল্যায়নে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

আজ স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৬৯৬.৭১ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৮ শতাংশ কমে ৪৭১৪ ডলারে নেমে আসে। খবর রয়টার্সের।
ডলারের মান কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি থেকেই স্বর্ণ এখন দিকনির্দেশনা পাচ্ছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার ফলে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও স্বল্পমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরান দুটি জাহাজ জব্দ করেছে, ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দেয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।
এ অবস্থায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, কারণ উভয় দেশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য প্রবাহে বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।
তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ে, ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার উচ্চ রাখতে পারে। যদিও স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। কারণ এতে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, যুদ্ধজনিত জ্বালানি ধাক্কার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এ বছর অন্তত ছয় মাস সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে পারে।
ওলে হ্যানসেন বলেন, বর্তমান স্থিতিশীলতা মূলত সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে। তবে আমরা মনে করি, এ বছর বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে স্বর্ণ আবার নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে, স্পট সিলভারের দাম ৩.৯ শতাংশ কমে ৭৪.৬৩ ডলার, প্লাটিনাম ৩.২ শতাংশ কমে ২০০৭.৯৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ৪.৮ শতাংশ কমে ১৪৭০.৭৯ ডলার হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


