জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনা এবং কেন্দ্রফেরত ভোটারদের আভাস অনুযায়ী অধিকাংশ নাগরিক পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের রায় দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত গণনায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ‘না’ এর পক্ষে পড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ ছাড়া গতকাল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থন বেশি পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন। এজন্য দেশবাসীকে তারা ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা না হওয়ায় গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত গণভোট নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিএনপি।
সংসদ নির্বাচনের ভোট দিতে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে না হলেও গণভোটের ব্যালটে সিল মারতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন বহু ভোটার। ভোট দিতে এলেও গণভোট সম্পর্কে তাদের ছিল না স্পষ্ট ধারণা। রাজধানী ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র। কালবেলার সঙ্গে আলাপকালে অধিকাংশ ভোটারই গণভোট সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা না থাকার কথা জানান। যারা কিছুটা ধারণা থাকার কথা বলেন, তারাও পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।
গণভোটে কোনো প্রতীক না থাকায় চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন সাধারণ ভোটাররা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও স্বল্পশিক্ষিত ভোটাররা বেশি বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ছকের বাইরে সিল মেরেছেন। অনেকেই আবার সিল না মেরেই ব্যালেট বাক্সে ফেলেন।
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর বিষয়ে দেশের নাগরিকদের মতামত নিতে আয়োজন করা হয় এ গণভোটের। ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান কি না, সেই প্রশ্নের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেন। বাংলাদেশে এর আগে তিনটি গণভোট হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের কোনো নজির ছিল না। আগের গণভোটগুলো হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের পৃথক দিনে নির্দিষ্ট একটি কোনো বিষয়ে মতামত নিতে। কিন্তু এবার দুটি ভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গণভোট নিয়ে গ্রামীণ জনপদের ও স্বল্পশিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে প্রচারণার অভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার এ বিভ্রান্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের বাসিন্দা রহিম মিয়া (৫৫), পেশায় কৃষক। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনসহ এর আগে ভোট দিয়েছেন বেশ কয়েকটি নির্বাচনে। তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণভোটে মার্কা (প্রতীক) খুঁজতে থাকেন। কোনো মার্কা না পাওয়ায় ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বাক্সে টিক না দিয়েই ব্যালট বাক্সে ফেলে আসেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ওই আসনের একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, ‘ব্যালট পেপারে আইনি বা জটিল শব্দ উল্লেখ না করে গণভোটের একটি চিহ্ন রাখা উচিত ছিল।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


