Advertisement

সংসদের সামনে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টি ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাইফুল আলম খান মিলন।

Gono vote

তিনি বলেছেন, সরকার এ বিষয়ে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে।

সংসদের বিভিন্ন কমিটিতে বিরোধী দলের নেতৃত্ব ‘নিশ্চিত না হওয়ার’ অভিযোগ এনে হতাশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই সদস্য।

শুক্রবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর সিস্টেমস (আইএফইএস) বাংলাদেশ-এর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল। সেই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন এমপি সাইফুল আলম খান।

মতবিনিময় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ভিন্নধর্মী ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর করতে হবে, যেখানে সংসদই হবে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র এবং সরকার ও বিরোধী দল সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।

এরপর গতবছর ১৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। আর গণভোট আয়োজনে জারি করা হয় গণভোট অধ্যাদেশ।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে এই আদেশ জারির পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। সেজন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর বর্তানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিতরা ১৭ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে শুরুতেই জটিলতা দেখা দেয়।

বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথ না নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিতরা প্রথমে শপথ নিতে না চাইলেও পরে দুই শপথই নেন। বিএনপির ভূমিকার জন্য তারা কঠোর সমালোচনা করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনো অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো পাস হতে হয়। আর তা না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না।

সে কারণে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনই ১৩৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে জামায়াতের এমপিরাও সদস্য হিসেবে আছেন।

সাইফুল আলম খান মিলন ব্রিফিংয়ে বলেন, আইএফইএস এর সঙ্গে মত বিনিময়ে সংসদের কার্যপ্রণালীতে (রুলস অব প্রসিডিউর) পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে উভয় পক্ষ মতামত দেয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে প্রতিনিধিদল।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার ও শিশির মো. মনির এবং এমপি মাহবুবুল আলম সালেহী মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ ওই মতবিনিময় সভা হয়েছে। বৈঠককালে উভয়পক্ষ বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে অধিকতর কার্যকর ও সুসংহত করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Rithe Rose serves as a Sub Editor at the iNews Desk, supporting daily news operations with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial consistency. In this role, Rithe edits and refines news copy, verifies facts, sharpens headlines, and ensures stories align with newsroom standards and ethical guidelines. With a keen eye for detail and deadlines, Rithe collaborates closely with reporters and editors to maintain quality control across breaking and developing stories, helping deliver timely and reliable news to readers.