পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আসন্ন গণভোটকে ঘিরে যত বাধা আসুক না কেন, সরকার তা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও গণভোট প্রচার সভায় তিনি বলেন, “এখন থেকেই জনগণকে ভাবতে হবে—কাকে ভোট দেবেন এবং কেন দেবেন। সচেতন ও তথ্যভিত্তিক ভোটই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথ সুগম করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তন আনতে হলে একই ব্যবস্থা, একই আইন-কানুন ও একই মানুষ দিয়ে এগোনো সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনআকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এর মূল দাবি ছিল রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার।”
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এই পরিবর্তনের সূচনা ঘটে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে। ছাত্র আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ঘটনা জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করে। সেই আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক শাসনের দাবিতে রূপ নেয়।”
তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটকে ঘিরে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের মাধ্যমে গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশন এই প্রক্রিয়ার অংশ। এর মধ্যে ৬টি কমিশন সরাসরি ভোট ও নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই সনদে থাকা সুপারিশগুলোকে সহজ ও স্পষ্টভাবে গণভোটের প্রশ্ন আকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত সাফল্য প্রমাণ করবে। ছাত্র-জনতার ত্যাগ বৃথা যায়নি। তবে সরকার কারোর উপর চাপ প্রয়োগ করছে না; ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সবার আছে।”
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংবিধান ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যাবে না, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হবে। এটি গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তিতে স্থাপন করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, রংপুর জেলা প্রশাসক মো. এনামুল আহসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


