যতই দিন যাচ্ছে এআইয়ের উপর নির্ভরতা বাড়ছে সবার। রান্নার রেসিপি হোক কিংবা গলা ব্যথা সব কিছুই জিজ্ঞাসা করছেন এআইকে। নির্ভর করছেন গুগলের এআই-ভিত্তিক সারাংশ ফিচারের উপর। এখন অনেক ব্যবহারকারী তথ্য খোঁজার জন্য আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট ঘাঁটার বদলে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দেওয়া সংক্ষিপ্ত উত্তরেই ভরসা করছেন। জরুরি তথ্য অনুসন্ধানের দায়িত্বও তুলে দিচ্ছেন এআই-এর হাতে। কিন্তু সেখানেই দেখা দিচ্ছে সমস্যা কিছু ক্ষেত্রে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। এমনই দাবি উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, লিভার ফাংশন টেস্ট সম্পর্কিত একটি অনুসন্ধানে গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ফলাফলকে ‘স্বাভাবিক সীমার মধ্যে’ বলে দেখানো হচ্ছিল। এতে রোগী ভুলভাবে ধরে নিতে পারেন যে তিনি সুস্থ আছেন। পরে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে ‘স্বাভাবিক পরিসর’ সংক্রান্ত অংশ নীরবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
আরেকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাবিষয়ক সাইটের বদলে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট থেকে তথ্য নিয়ে সারাংশ তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ সার্চ ব্যবহার করেন, ফলে এ ধরনের ভুল তথ্য কতটা বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে।
চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ হলে শুধুমাত্র অনলাইন সার্চের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। অনেকেই উপসর্গ লিখে সার্চ করে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু অনেক সময় ফলাফল বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। এখন সমস্যা আরও বাড়ছে, কারণ অনেক ব্যবহারকারী বিস্তারিত ফলাফল না দেখে সরাসরি এআই-এর সারাংশ পড়েই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, জার্মানিতে ৫০ হাজার সার্চের ক্ষেত্রে ৪.৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই ইউটিউব ভিডিওর তথ্যই সামারিতে দিয়েছে গুগল। অথচ সেদেশের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘নেটডক্টর.ডি’-র তথ্য মাত্র ৩.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৪.৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এআই ওভারভিউ মিলেছে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সূত্র থেকে। শতাংশের নিরিখেই পরিষ্কার, উদ্বেগটা অমূলক নয়। বহু মানুষই চোখ বুজে গুগলকে বিশ্বাস করেন! ফলে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


