কল্পনা করুন, আপনি একটি দারুণ ভিডিও তৈরি করেছেন, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের জন্য মানানসই কোনো গান খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার কপিরাইট সংক্রান্ত ঝামেলাও কম নয়। আগে এই সমস্যা সমাধান করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্রি মিউজিক খুঁজতে হতো, অথবা কোনো মিউজিশিয়ানকে দিয়ে নিজস্ব সুর বানাতে হতো। এখন এই কাজটি অনেক সহজ হয়ে এসেছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনি’-এর মাধ্যমে।

প্রাথমিকভাবে জেমিনি ই-মেইল লেখা বা জটিল বিষয় ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতো। কিন্তু নতুন আপডেটে এটি আর শুধু টেক্সট বা ছবি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; এখন এটি সঙ্গীত তৈরিতেও সক্ষম। গুগলের ‘লিরিয়া ৩’ মডেলের মাধ্যমে জেমিনি যে কোনো ধরনের কাস্টম মিউজিক তৈরি করতে পারে।
ধরা যাক, আপনি একটি পিয়ানো ভিত্তিক বিষণ্ণ সুর চান। আপনি জেমিনিকে লিখলেন, “একটি বৃষ্টির দুপুরের জন্য মন খারাপ করা পিয়ানোর সুর তৈরি করো।” মুহূর্তের মধ্যেই জেমিনি সেই সুর তৈরি করে শোনাতে সক্ষম। এছাড়াও, গানের গতি পরিবর্তন করা বা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র যোগ করাও সম্ভব। লিরিয়া ৩ মূলত একটি হাই-ফিডেলিটি এআই মিউজিক জেনারেশন টুল, যা প্রম্পট অনুযায়ী ৩০ সেকেন্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ট্র্যাক বানাতে পারে।
বাংলাদেশের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি এক বিশাল সুযোগ। ইউটিউব বা ফেসবুকের ভিডিওতে প্রায়ই কপিরাইট সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু জেমিনির মাধ্যমে তৈরি করা মিউজিক সম্পূর্ণ নতুন ও ইউনিক হওয়ায় এই ঝুঁকি নেই। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী গান কাস্টমাইজ করা এখন যে কারো জন্যই সম্ভব।
আরও মজার বিষয় হলো, আপনি ফোনের গ্যালারি থেকে ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করেও গান তৈরি করতে পারেন। ধরুন, সমুদ্র সৈকতে কাটানো মুহূর্তের একটি ভিডিও আছে; জেমিনিকে সেই ভিডিওর সঙ্গে প্রম্পট দিলে এমন একটি ট্র্যাক তৈরি করবে, যার লিরিক বা মেজাজ সেই মুহূর্তের সঙ্গে মিলবে। যারা প্রম্পট দিতে দ্বিধা বোধ করছেন, তাদের জন্য টেমপ্লেট গ্যালারিও রয়েছে। এখান থেকে একটি ট্র্যাক বেছে নিয়ে নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করা যায়।
আপনি চাইলে গানের জনরা (যেমন আশি বা নব্বইয়ের দশকের পপ), গতি, বাদ্যযন্ত্র এবং কণ্ঠের ধরনও নির্দিষ্ট করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, “একটি শান্ত মেজাজের ফোক গান, পিয়ানো থাকবে, আর নারী কণ্ঠ মেঘলা দিনের অনুভূতি প্রকাশ করবে”—এমনভাবে প্রম্পট দেওয়া যাবে।
অনেকে ভাবেন, এআই মানুষের কাজ দখল করবে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি শিল্পীদের জন্য সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে। একজন সুরকার নতুন আইডিয়ার জন্য জেমিনির সাহায্য নিতে পারেন। এটি সৃজনশীলতাকে থামায় না, বরং আরও ডানা মেলতে সাহায্য করে।
নিরাপত্তার জন্য গুগল ‘সিনথআইডি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এটি মিউজিকের ভেতরে একটি ডিজিটাল চিহ্ন বসায় যা কানে শোনা যায় না, কিন্তু সফটওয়্যার দিয়ে শনাক্ত করা যায়। ফলে নকল বা জালিয়াতির ঝুঁকি কমে আসে।
প্রযুক্তির এই উন্নতি আমাদের প্রতিদিনের কাজকে সহজ করে তুলেছে। এখন সৃজনশীল সঙ্গীত তৈরির ক্ষমতা শুধু স্টুডিওর চার দেয়ালেই সীমাবদ্ধ নেই—এটি এসেছে আমাদের হাতের মুঠোয়। জেমিনির মাধ্যমে সংগীতের এই নতুন যুগ কেমন পরিবর্তন আনে, তা সামনের দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
তানজিদ শুভ্র
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


