আগামী দিনের একটি নতুন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের চাপে নিপীড়িত মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি নিশ্চিত করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান।
বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাতটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, আমজনতার মিয়া মসিউজ্জামান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জন অধিকার পার্টির ইসমাইল হোসেন, নেজামে ইসলাম পার্টির এ কে এম আশরাফুল হক এবং গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের হারুন চৌধুরী।
ডিআরইউ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় : গতকাল দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের রাজনীতি হতে হবে পলিসিনির্ভর।
রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার কী নীতি থাকবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়নে করা হবে সেসব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত।তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।’
আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যানজটসহ সব নাগরিক সমস্যার সমাধানে দেশিবিদেশি পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব স্যাটেলাইট সিটির সঙ্গে ঢাকার ট্রেন যোগাযোগ থাকবে, যেখানে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে।
এতে রাজধানীর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি পুরান ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
এ ছাড়া বুড়িগঙ্গাকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা পলিথিন উত্তোলন করে প্রায় ২ ফুট খনন করা গেলে নদী তার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে বিএনপি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সময় এখনই। সব নাগরিকের তার যথাযোগ্য মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো কোনো দলের সদস্যরা গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা চাই সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে ক্ষমতায় আসবে। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।
ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি দেশ গঠনে দায়িত্ব পেলে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে তিনি আশা করেন, ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করবেন। যার দরকার হবে না বা যিনি সচ্ছল তিনি এ কার্ড নিজেই ব্যবহার করবেন না। স্বাধীন গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে গণমাধ্যম পুরো স্বাধীনতা ভোগ করবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করবে বিএনপি সরকার।
সাক্ষাৎ শেষে ডিআরইউর পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় ডিআরইউর শুভেচ্ছা স্মারক ও প্রকাশনা সামগ্রী তাঁর হাতে তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস : রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তারেক রহমান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি স্বজনদের কাছে যান এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। সাক্ষাৎকালে হতাহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
তারেক রহমান গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রত্যেকের কথা শোনেন এবং শোকার্ত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবিদাওয়া পূরণে কাজ করবে, এমন অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত এবং বহু শিক্ষার্থী আহত হয়।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


