বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সাধারণত কোনো দলের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও সুবিধার বিষয়। তবে জার্মানির জন্য এবারের পরিস্থিতি যেন একটু ভিন্ন। গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পরও দলকে নকআউট পর্বের প্রস্তুতিতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জার্মান কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যান।

গ্রুপ ‘ই’-তে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে জার্মানি। টরন্টোয় আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা শুধু নকআউট পর্বে ওঠেনি, নিজেদের গ্রুপসেরার অবস্থানও নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এই অর্জনের পরও স্বস্তি পাচ্ছেন না নাগেলসম্যান।
তার মূল আপত্তি বর্তমান বিশ্বকাপের সূচি বিন্যাস নিয়ে। আগামী ২৯ জুন বোস্টনে নকআউট পর্বে মাঠে নামবে জার্মানি। তবে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ধারণ হবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর। ফলে প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ, কৌশল নির্ধারণ এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার জন্য কোচিং স্টাফদের হাতে খুব কম সময় থাকছে।
নাগেলসম্যান মনে করেন, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া কোনো দলের জন্য এমন পরিস্থিতি মোটেও আদর্শ নয়। তার ভাষায়, শীর্ষস্থান অর্জনের পরও যেন দলকে এক ধরনের ‘শাস্তি’ ভোগ করতে হচ্ছে। কারণ প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হওয়ার পর রাতারাতি তাদের খেলার ধরন বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে।
তবে জার্মান কোচিং স্টাফ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের তালিকা তৈরি করে তাদের ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্লেষক দল বিভিন্ন দলের খেলার ভিডিও পর্যালোচনা করছে, যাতে প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা যায়।
নাগেলসম্যান জানিয়েছেন, তিনি নিজেও সম্ভাব্য কয়েকটি দলের ম্যাচ দেখেছেন। তার বিশ্লেষক দলও বিভিন্ন প্রতিপক্ষের একাধিক ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রয়োজন হলে রাত জেগেও কাজ করতে তারা প্রস্তুত। তবে তার মতে, এমন পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ থাকলে সেটাই হওয়া উচিত ছিল।
নকআউট পর্বের আগে জার্মানির সামনে রয়েছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। বৃহস্পতিবার তারা মুখোমুখি হবে ইকুয়েডরের। যদিও এই ম্যাচের ফলাফল জার্মানির অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবু প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরের জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা এখনও পরবর্তী পর্বে ওঠার লড়াইয়ে রয়েছে।
এ কারণেই শেষ ম্যাচে জার্মান দলে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। নকআউট পর্বের আগে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ভ্রমণ, ঘন সূচি এবং সামনে আরও কঠিন ম্যাচের কথা মাথায় রেখে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখাই এখন কোচের প্রধান লক্ষ্য।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা জার্মানির জন্য মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গেও এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আর সেই বাস্তবতাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বকাপের বর্তমান সূচি বিন্যাস কতটা দলগুলোর জন্য সুবিধাজনক।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



