নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের পথে জনগণের সম্মতিই সবচেয়ে বড় শক্তি—এ কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দ্বার উন্মুক্ত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, শুধু নির্বাচনে নয়, একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত করতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের চাবিকাঠি এখন আপনাদের হাতে। নিজে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিন, অন্যদের উদ্বুদ্ধ করুন এবং সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে উৎসাহ দিন। আসুন, একসঙ্গে দেশ বদলে দিই।”
ড. ইউনূস তার ভাষণে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই অভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ভিত্তি পুনর্গঠনের এক বিরল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলেও তিনি আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সনদ কার্যকর করতে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে বাংলাদেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে। সরকার এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য জনগণের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
এ ছাড়া বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের হাতে দেওয়া, একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবের পাশাপাশি নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আরও সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধান উপদেষ্টা।
জুলাই সনদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না রাখা।
শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ইনশাআল্লাহ সবাই একসঙ্গে অংশ নিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


