প্রবাদে আছে—চুল থাকতে চুলের কদর বোঝা যায় না। নিয়মিত কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, রাসায়নিক রং, অতিরিক্ত স্টাইলিংয়ের কারণে অনেকেই অজান্তেই চুলের বড় ক্ষতি করে ফেলেন। শুরুতে তেমন সমস্যা মনে না হলেও কিছুদিনের মধ্যেই মুঠো মুঠো চুল ঝরতে থাকে। তেল, শ্যাম্পু কিংবা সিরাম ব্যবহার করেও যখন চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে আসে না, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অনেকে।

পরিস্থিতি যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মাথার তালু স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করে, তখনই মূলত সচেতনতা আসে। শেষমেশ উপায় না দেখে অনেকেই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন। তবে অনেকেই জানেন না, চুল প্রতিস্থাপন একটি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রোপচার এবং এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই ট্রান্সপ্লান্ট করানোর আগে এসব বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি।
ফোলাভাব ও পাফিনেস
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের পর মাথা, কপাল কিংবা মুখমণ্ডলে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে চোখ বা গালও সাময়িকভাবে ফুলে ওঠে। সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যেই এই সমস্যা কমে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ফোলাভাব এক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
ব্যথা ও যন্ত্রণা
প্রক্রিয়াটি অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে করা হলেও তার প্রভাব কেটে গেলে ব্যথা শুরু হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মনে হয় যেন একসঙ্গে অসংখ্য মৌমাছি হুল ফুটিয়েছে। তবে এই যন্ত্রণা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়—ব্যক্তিভেদে কম-বেশি হতে পারে।
শক লস
চুল প্রতিস্থাপনের দুই থেকে ছয় সপ্তাহ পর হঠাৎ করে চুল ঝরে পড়তে পারে। এমনকি প্রতিস্থাপিত চুলও পড়ে যেতে দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, যাকে বলা হয় ‘শক লস’। সাধারণত তিন মাস পর থেকে সেই জায়গায় আবার নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
স্ক্যাল্পে জ্বালা ও অস্বস্তি
যাদের স্ক্যাল্প সংবেদনশীল বা খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। ক্ষতস্থানে ঘাম বা ধুলো জমলে চুলকানি, টান ধরা কিংবা সুড়সুড় ভাব অনুভূত হয়। অস্ত্রোপচারের ক্ষত শুকানোর সময় এই ধরনের সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।
ক্ষত ও সংক্রমণের ঝুঁকি
যে অংশ থেকে চুলের ফলিকল সংগ্রহ করা হয়, সেখানে ক্ষত তৈরি হয়। আর্দ্র আবহাওয়ায় সেই ক্ষত শুকাতে সময় লাগে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। তাই অস্ত্রোপচারের পর বাইরে চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি, নইলে ঘা শুকাতে দেরি হতে পারে।
সুতরাং, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর আগে শুধু ফলাফল নয়, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সূত্র: এই সময়
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


