মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেল আমদানি শুরু করেছে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান এখন লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল আমদানি করছে। মূলত হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে বহু জাহাজ আটকে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পর পাকিস্তান লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করেছে।
পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশন (পিএনএসসি)–এর একটি জাহাজ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছেছে। সেখানে ৭৩ হাজার টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে জাহাজটি বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) করাচির উদ্দেশে রওনা দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া শালামার নামে পিএনএসসি’র আরেকটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে তেল নিয়েছে এবং সেটিও এখন করাচির দিকে যাত্রা করছে।
শিপিং খাতের সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জাহাজের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে পিএনএসসি’র দুটি জাহাজ করাচির কাছে এবং একটি চার্টার বন্দরে আটকে রয়েছে।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এই অচলাবস্থার ফলে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রপ্তানি আটকে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে দামের এই উল্লম্ফনের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। আন্তর্জাতিক দামের চাপের কারণে দেশটির ফেডারেল সরকার প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২৬৬.১৭ রুপি থেকে বেড়ে ৩২১.১৭ রুপি হয়েছে। আর ডিজেলের দাম ২৮০.৮৬ রুপি থেকে বেড়ে ৩৩৫.৮৬ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে মঙ্গলবার পোর্ট কাসিম বন্দরে পেট্রোলবাহী চারটি জাহাজও পৌঁছেছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার টন পেট্রোল খালাস করা হয়েছে এবং আরও ৫০ হাজার টনের একটি চালান খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


