স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের দাপুটে জয়ের রাতটি শুধু দলের জন্যই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য। জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে করা এক মজার বাজিতেও জিতেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। কারণ, দ্বিতীয় গোলটি তিনি করেছেন হেড থেকে—যে বিষয়টি নিয়ে আগে কোচ আনচেলত্তির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ এক চ্যালেঞ্জ হয়েছিল।
ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গুইমারায়েসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। আর এই গোলের পরই সামনে আসে কোচ ও শিষ্যের মজার গল্প।
স্পোরটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়ুস বলেন, “আমি সবসময় সংখ্যার দিকে নয়, দলের জন্য নিজের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করার চেষ্টা করি। গোল করতে পারায় আমি আনন্দিত। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি হেড থেকে গোল করতে পেরে।”
তিনি জানান, ম্যাচের আগে আনচেলত্তিকে কথা দিয়েছিলেন যে তিনি হেডে গোল করবেন। কিন্তু কোচ বিষয়টিকে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেছিলেন।
ভিনিসিয়ুস হাসতে হাসতে বলেন, “আমি কোচকে বলেছিলাম, হেডে গোল করব। তিনি বলেছিলেন, এটা প্রায় অসম্ভব। পরে মজা করে বলেন, যদি সত্যিই করতে পারি তাহলে আমাকে একটি উপহার দেবেন। এখন আমি সেই উপহারের অপেক্ষায় আছি।”
মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের জন্য বিশেষ এক রাত। এই ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের এক আসরে প্রতিটি গ্রুপ ম্যাচে গোল করা ব্রাজিলের মাত্র পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লেখান। এর মাধ্যমে দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলারদের একটি বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা। তার মতে, টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিক উন্নতি এবং জয়ের ধারা বজায় রাখা।
ভিনিসিয়ুস বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দল জিতছে এবং আমরা প্রতিটি ম্যাচে আরও ভালো খেলছি। এখন সামনে নকআউট পর্ব। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে প্রথম গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস। পরে আরেকটি গোল করলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়। তবে হেড থেকে করা দ্বিতীয় গোলটি তাকে এনে দেয় ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
এদিকে প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা নেইমারও ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তার প্রত্যাবর্তন দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করলেও ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন ভিনিসিয়ুসই।
গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়া ব্রাজিল এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর দলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ব্রাজিল সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে আরও বড় কিছুর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



