বিপদ সংকেত পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সতর্কবার্তা দিচ্ছে সূর্যের গায়ে জন্ম নেওয়া বিশালাকার সানস্পট বা সূর্যের দাগ। সৌদি আরবের উত্তরে আরার সীমান্ত অঞ্চলের আকাশে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকটি বিশাল সানস্পট দেখা গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর ফলে যে সাম্ভাব্য ঘটনাগুলি ঘটতে পারে, তার মধ্যে একটি হল সৌরঝড় ধেয়ে আসতে পারে পৃথিবীর দিকে। এতে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইট পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মহাকাশ ও জ্যোতির্বিদ্যা ক্লাবের সদস্য আদনান খলিফা বলেন, এই সপ্তাহে দেখা সানস্পটগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ৪১৯৫, ৪১৯৭, এবং ৪১৯৮। এই বছরের রেকর্ড করা বৃহত্তম দাগগুলির মধ্যে এগুলি অন্যতম। প্রতিটি দাগের ব্যাস কয়েক হাজার কিলোমিটার এবং নিরাপদ সৌর ফিল্টার সহ ছোট টেলিস্কোপের মাধ্যমে এটি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
সানস্পট বা সূর্যের দাগ কী?
সানস্পট সূর্যের গায়ে তৈরি হওয়া বৃহৎ, কালো অঞ্চল; যে অঞ্চলে তৈরি হয় একটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র। নির্দিষ্ট এই অঞ্চলে সৌরপৃষ্ঠের বাকি অংশের তুলনায় তাপমাত্রা তুলনামূলক ভাবে কম থাকে বলে এই অঞ্চলকে দেখতে কালো লাগে। সানস্পটের তাপমাত্রা এই কারণেই কম থাকে। সূর্যের যে অংশে উচ্চ এবং ঘন চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়, সেই অংশে সূর্যের গর্ভ থেকে বাইরের দিকে (পৃষ্ঠ) উষ্ণ গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। উষ্ণ গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে, স্বাভাবিক নিয়মে সেই অঞ্চল ঠান্ডা হয়ে যায়।
সানস্পটে এই বিশাল পরিমাণ চৌম্বক ক্ষেত্র একত্রিত হওয়ার ফলে অধিকাংশ সময়েই তৈরি হয় ‘সোলার ফ্লেয়ার’, যা পৃথিবীর বুকে ধেয়ে আসে সৌরঝড় রূপে। সোলার ফ্লেয়ার এবং সৌরঝড় আদতে ভীষণ শক্তিশালী চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
সূর্যের দাগগুলো নিয়মিতভাবে দেখা যায় না; এর একটি পর্যায়ক্রমিক চক্র রয়েছে, যা প্রায় ১১ বছর ধরে চলে। এই সময়ে সূর্যের দাগের সংখ্যা বাড়ে এবং কমে। এই পর্যায়টিকে সৌর চক্র বলা হয়।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ঠিক সেইরকমই কিছু হতে পারে এবার। যত বেশি সংখ্যায় এই এরকম দাগ দেখা যাবে, ততই বাড়বে ‘সোলার ফ্লেয়ার’ এবং সৌরঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা।
সৌরঝড় ধেয়ে আসলে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইট, যার ফলে ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ব্যহত হতে পারে বিদ্যুত পরিষেবা। কারণ সোলার স্টর্মের সাথে ধেয়ে আসা তীব্র শক্তিসম্পন্ন ম্যাগনেটিক ওয়েভ বিদ্যুত গ্রিডকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সোলার ফ্লেয়ার তুলনামূলক ভাবে বেশি শক্তিশালী। যার ফলে অনায়াসেই পৃথিবীর কক্ষপথচ্যুত হতে পারে ঘুরে বেড়ানো স্যাটেলাইটগুলি। সোলার ফ্লেয়ারের জন্যে পৃথিবীর উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলগুলিতে রেডিও ব্ল্যাকআউট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।পাশাপাশি বিদ্যুতগ্রিডও সম্পূর্ণ বিকল হয়ে
যদি আরও বাড়তে থাকে সৌরকলঙ্কের আকৃতি, সেই অঞ্চল থেকে ছিটকে বেরোনো ম্যাগনেটিক ক্ষেত্রের শক্তিও বাড়বে পাল্লা দিয়ে। সে ক্ষেত্রে সোলার ফ্লেয়ারের তীব্রতা এবং শক্তি বাড়বে। এবং তা যদি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে তাহলে স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে শুরু করে, বিদ্যুত এবং রেডিও পরিষেবা বিপর্যস্ত হবে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছে একাধিক সোলার ফ্লেয়ার।
চলতি বছরের ১৪ মে সূর্যের দাগ অঞ্চল এআর৪০৮৭ থেকে একটি শক্তিশালী সৌর অগ্নিশিখার উদ্গিরণের পর নাসার বিজ্ঞানীরা একটি সতর্কতা জারি করেন যে, পৃথিবীর দিকে বিশাল সৌর শিখা বিদ্যুতের বিপর্যয় (ব্ল্যাকআউট) ডেকে আনতে পারে। এক্স২.৭ ঘটনা হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ এই অগ্নিশিখাটি এখন পর্যন্ত বছরের সবচেয়ে তীব্র এবং নোয়া স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার এটি রেকর্ড করেছে। এটি ব্ল্যাকআউট শুরু করতে এবং পৃথিবীতে যোগাযোগ ব্যাহত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ব্ল্যাকআউটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূর্যের দাগটি ইতিমধ্যেই একাধিক অগ্নিশিখা তৈরি করেছে।
সূত্র: সৌদি গ্যাজেট, এক্সপ্রেস ইউকে
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।