জুমবাংলা ডেস্ক : ১৯৮২ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি। সামরিক শাসক হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এরশাদ বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ক্ষমতার ৯ বছরে তার কর্মকাণ্ড তাকে ‘পল্লীবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করে।

Advertisement
এরশাদের শাসনামলের অন্যতম সাফল্য ছিলো উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন করা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি কেন্দ্র হিসেবে থানাগুলোকে সৃষ্টি করে। ১৯৫৯ সালে প্রথমবারের মতো থানা পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার ইউনিট গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি এরশাদ উপজেলাগুলোকে উন্নয়ন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উন্নীত করার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পুনর্গঠন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এরপর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০টি ধাপে ৪৬০টি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করেন তিনি।

উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানবৃন্দ ১৯৮৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরশাদ তার শাসনকালে জেলা পরিষদসমূহকেও সক্রিয় ও কার্যকর করেন।

এরশাদের আরেকটি বড় সাফল্য ছিল দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। ১৯৮৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমন্ত্রণে এ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা ঢাকায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। এই প্রথম শীর্ষ সম্মেলনেই দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা সার্ক গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যাতে অন্তর্ভুক্ত হয় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ।

রাষ্ট্রপতি এরশাদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পের বিরাষ্ট্রীয়করণ এবং দেশে ব্যক্তিখাতের বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল সরকারি মালিকানাধীন উত্তরা, পুবালী ও রূপালী ব্যাংকের বিরাষ্ট্রীয়করণ। এসময়ে দেশে প্রথমবারের মতো বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণ্যিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিকে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি প্রদান করেন তিনি।

মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার মাধ্যমে দেশে জেলার সংখ্যা ৬৪ করা হয় এরশাদের আমলে। এগুলোর অধীনে আবার ন্যস্ত করা হয় ৪৬০টি উপজেলাকে। কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্যে এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল একটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিশন গঠন করেন, যার সুপারিশ অনুযায়ী জনপ্রশাসনকে নতুন করে সাজানো হয়।

একটি সমন্বিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসকে এরশাদ সরকার ৩০টি ক্যাডারে বিভক্ত করেন। তার সময়কালেই সিভিল সার্ভিস ক্যাডারসমূহের গঠন ও দায়িত্ব অনুযায়ী তাদের আনুষ্ঠানিক আকার দেওয়ার লক্ষ্যে ক্যাডার কম্পোজিশন ও নিয়োগ বিধি জারি করা হয়। পাশাপাশি এদের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য প্রণয়ন করা হয় সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি এবং শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি।

নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক স্বার্থ সমুন্নত রাখতে এরশাদ সরকার ১৯৮৪ সালে একটি পৃথক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর স্থাপন করে। এরশাদ আমলের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল পুলিশসহ বিভিন্ন সিভিল পদে মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যক সেনা কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ।

ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বেঞ্চ বসিয়ে এরশাদ উচ্চতর আদালত বিকেন্দ্রীকরণেরও প্রয়াস চালান, কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়ে পরে তা খারিজ হয়ে যায়।

এরশাদ সরকার ভূমি সংস্কারের জন্য ১৯৮২ সালে একটি কমিটি গঠন করেন। ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ১৯৮৪, ভূমি সংস্কার বিধি ১৯৮৪ এবং কৃষি শ্রম (ন্যূনতম) মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৮৪ জারি করা হয়। ভূমি সংস্কার সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে ১৯৮৭ সালের মার্চে একটি ক্যাম্পেইন হাতে নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য ছিল: ভূমিহীন, প্রায়-ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে খাসজমি বিতরণ; ‘অপারেশন ঠিকানা’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি জমিতে ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছ-গ্রাম প্রতিষ্ঠা; বর্গাচাষীদের আইনগত অধিকার প্রদান; অধিকতর উৎপাদনের জন্য পাহাড়ি জমি, মৎস্য ও চিংড়ি চাষের জমির সর্বোত্তম ব্যবহার; পল্লী অঞ্চলের আয় বন্টনে অধিকতর সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উচ্চতর কৃষি উৎপাদনে অবদান রাখা; গ্রামাঞ্চল থেকে শহরাঞ্চলে অভিবাসন হ্রাসে সহায়তা করা।

এরশাদই প্রথম যমুনা সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন। পথশিশুদের জন্য তিনি ‘পথকলি ট্রাস্ট’ গঠন করেছিলেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google