আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি সংস্থাটি। ওয়াশিংটনে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেন-দরবারে কয়েকটি বিষয়ে এখনও সমাধান হয়নি। তবে আগামী দুই সপ্তাহের আলোচনায় এসব বিষয় মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে। সভার পঞ্চম দিনে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকে ঋণের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ। কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক বিষয় এখনও রিজলভড হয়নি, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। এখানে এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার সুযোগ নেই।
সংস্কারে ব্যর্থতার কারণে কিস্তি স্থগিত হওয়ার খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আইএমএফ না করেছে কি না, সেটা তারাই বলতে পারবে। আমরা সবার মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবই দেখছি। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বিএনপির পলিসির সঙ্গে একমত)।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলছে। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থগিত থাকা বাকি কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দর-কষাকষি চলছে। এবারের বৈঠকে আইএমএফের পক্ষ থেকে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কিছু সংবাদমাধ্যমে কিস্তি স্থগিতের খবর এলেও অর্থমন্ত্রী সেটিকে ‘ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্যাকেজটা কী হবে, সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে তারা সাপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।
শুক্রবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ককে ভিন্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি সেক্টরে আমেরিকার সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর আমরা জোর দিচ্ছি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
২০২৩ সালে ৪৭০ কোটি (৪.৭ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ চুক্তির বিপরীতে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার গত ডিসেম্বরে পাওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে অর্থনীতির বিদ্যমান বাস্তবতা ও যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা হিসেবে আইএমএফের কাছে আরও ৩০০ কোটি ডলারের চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশের। আইএমএফ এই অর্থ ছাড়ের আগে সংস্কারের অগ্রগতি দেখতে চায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


