নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে বিয়ের প্রলোভনে এক নাট্যশিল্পীর অশালীন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি এবং সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সেই অশালীন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাই-বন্ধু নাট্য গোষ্ঠী নামক একটি নাট্য দলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাট্যশিল্পী আদালতের দ্বারস্থ হলে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতের বিচারক সখিপুর থানা পুলিশকে তিন কার্য দিবেসের মধ্যে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করার নির্দেশ প্রদান করেন।

এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর সাত জনকে আসামী করে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে সখিপুর থানা পুলিশ। তবে মামলা দায়ের হওয়ার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মামলার বাদি ও ভুক্তভোগী নাট্য শিল্পী দাবি করেন, মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রোগ্রাম করছেন। পুলিশ ইচ্ছাকৃত গাফলতি করেই তাদেরকে গ্রেফতার করছে না।
আসামীরা হলেন- জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার আদার ভিটা ইউনিয়নের নখলা বড়বাড়ী মো. গফুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩০), গাইবান্ধার সাঘাটা থানার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (৫০), টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার কালিয়া ঘোনারচালা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে কাঙ্গাল হোসেন (৩৮), সখিপুর থানার আমতৈল গ্রামের লতা সরকার (২০), কচুয়া এলাকার আখী (২০), কালিয়া গোয়ালবাড়ী এলাকার ফরহাদ (৪০), সারাশিয়া গ্রামের লেবু মিয়া (৫৫)।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামীরা ভাই-বন্ধু নাট্য গোষ্ঠী নামক একটি নাট্য দল খুলে বিভিন্ন স্থানে যাত্রা, পালাগান করেন। এই নাট্য দলে ভুক্তভোগী নাট্যশিল্পীকে প্রতিরাতে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেয়ার শর্তে নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের চুক্তি করেন। নাট্য দলে জড়িত হওয়ার পর মিজানুর রহমান ওই নাট্য শিল্পীকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং বিয়ের আশ্বাসে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। সেসময় কৌশলে মোবাইল ফোনে নাট্য শিল্পীর উলঙ্গ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। এরপর বিয়ের কথা বললে মিজানুর রহমান বিয়ে করতে অসম্মতি জানায় এবং অভিনয় বাবদ পাওনা পারিশ্রমিক দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আসামীরা তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে মোবাইলে ধারণকৃত উলঙ্গ ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৭ জুলাই এবং ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামালা দায়ের হওয়ার পর গত ২৭ ডিসেম্বর সখিপুর থানা এলাকার পাশে বগা এলাকায় প্রকাশ্যে মঞ্চ অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছে আসামীরা। এছাড়া প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। অথচ অজানা কারণে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাট্য শিল্পী বলেন, আসামীরা কৌশলে আমার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজাকি যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার মান সম্মান হানি করেছে এবং আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। তারা আমাকে এবং আমার পরিবারের লোকজনকেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতা রয়েছি। আমি এর সুিষ্ঠু বিচার চাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আসামীদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো ও মঞ্চে অভিনয় করার বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে বাদির কাছে সহযোগিতা চেয়েছি, আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


