ক্রিকেট মাঠে ভারতকে পরাজিত করতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বনানীর একটি হোটেলে সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া বিপিএল সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মিরাজ ২০২২ সালে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেই ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হই যখন ভারতের সঙ্গে জিতি। আমি এবং মোস্তাফিজ মিলে সেই ম্যাচটি জিতিয়েছিলাম, যা আমাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত ছিল।’ ভারতের বিপক্ষে ব্যক্তিগত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সেই সিরিজ জয়ের নায়ক মিরাজ বর্তমান ক্রিকেটীয় পরিস্থিতির নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরাজ। ক্রিকেটাররা কোনো টাকা ফেরত দিচ্ছে না কেন—নাজমুল ইসলামের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মিরাজ স্পষ্ট করেন, ক্রিকেটাররা সরকার থেকে কোনো অনুদান নেন না, বরং তারাই সরকারকে সর্বোচ্চ কর প্রদান করেন।
মিরাজ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন সরকার থেকে আমরা টাকা পাই, কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়। আমরা মাঠে খেলে আয় করি এবং সেখান থেকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর বা ট্যাক্স সরকারকে প্রদান করি।’ তিনি দাবি করেন যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সঠিকভাবে কর দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
মিরাজ তার বক্তব্যে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের উদাহরণ টেনে বলেন যে, তারা নিয়মিতভাবে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃত। মিরাজের ভাষ্যমতে, ‘সাকিব ভাই ও মুশফিক ভাই অনেকবারই সর্বোচ্চ ট্যাক্স দিয়েছেন।
আমাদের যখন পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তখন ট্যাক্স কেটেই বাকিটা দেওয়া হয়।’ ক্রিকেটাদের এই স্বনির্ভরতার বিষয়টি তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি বলেন যে, ক্রিকেটারদের সাফল্যের কারণেই আইসিসি থেকে বিসিবি কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায় এবং টিভি স্বত্ব ও মাঠের বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়।
এদিকে ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বোর্ড। বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার জবাব চাওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের বৈঠক
ইতিমধ্যে তাকে অর্থ কমিটির প্রধানসহ সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে মিরাজ ও মিঠুনরা খেলা বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিপিএল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটেছে এবং টুর্নামেন্টটি পুনরায় মাঠে গড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


