রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারতকে আরও কঠোর শাস্তির মুখে ফেলতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘শায়েস্তা’ করতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিষয়টিকে নয়াদিল্লির জন্য বড় ধরনের অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে একই কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশে মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এবার সেই শুল্ক আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে একটি বিল শিগগিরই মার্কিন আইনসভায় উত্থাপন করা হবে। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই বিলটি কংগ্রেসে ভোটের জন্য তোলা হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিন্ডসে গ্রাহাম লেখেন, এই বিল পাস হলে যেসব দেশ সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা যাবে। তার মতে, ভারত ছাড়াও চীন ও ব্রাজিলও এই ‘শাস্তি’র আওতায় পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও নয়াদিল্লির ওপর রুশ তেল আমদানি বন্ধের চাপ রয়েছে। এর পাশাপাশি রাশিয়ার দুই বড় তেল কোম্পানি—রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রেক্ষাপটে গত রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ভারত) এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। আমরা খুব শিগগিরই ওদের ওপর আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।”
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় ভারত। নয়াদিল্লি বারবার জানিয়ে এসেছে, দেশের ভোক্তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন দেশ থেকে কতটা সাশ্রয়ী দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকাল’ নিয়ন্ত্রণে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র
উল্লেখ্য, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সেই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেয় ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি শুরু করে, যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


