ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এ সময় তারা ‘স্বৈরশাসকের পতন হোক’ স্লোগান দেন।

এদিনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ রাজবংশের রেজা শাহ পাহলভি। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। একইদিন ইরানের সরকারকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, কোনো বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর আঘাত হানবে।
বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়ানোয় ইরানি সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব হুমকি বিক্ষোভকারীদের দমাতে পারেনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর বৃহস্পতিবারের জমায়েত ছিল সবচেয়ে বড়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি যাচাই করে দেখা গেছে, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভে জনসমাগম ঘটে। আয়াতুল্লাহ কাশানি বুলেভার্ড মহাসড়কে মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভের সমর্থনে হর্ন বাজাতে থাকেন।
ইরানের বাইরে অবস্থানরত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবিতে আরও কয়েকটি শহরে বড় বিক্ষোভ দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে তাবরিজ ও মাশহাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে তাবরিজ শহরে ‘পাহলভি দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিও যাচাই করতে পারেনি এএফপি। একই ধরনের ভিডিওতে বিক্ষোভ দেখা গেছে ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানে।
স্থানীয় অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, সরকার বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানের চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের খুব কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে- এখন যেভাবে কথা বলছি, এর চেয়েও কঠোর অবস্থান নিতে পারি। তারা যদি এটা করে (হত্যা) তাহলে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।’
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইরানসহ বিশ্বজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকার কথা জানিয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


