লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আইফোন চুরির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৫) মরদেহ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রামগঞ্জ থানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
নিহত মেহেদী হাসান রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার বিকেলে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একাডেমির ছাত্রাবাসে আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী মেহেদীকে মারধর করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যাওয়ার পর মেহেদীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাকে একটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের সময়ই তার মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।
চাটখিল থানার উপ-পরিদর্শক সেকান্দার মোল্লা জানান, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহের পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মোবাইল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



