ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। শুক্রবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি এসে পৌঁছালে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ।

ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহবাহী কফিন ঢাকার রানওয়েতে অবতরণ করে। এ সময় বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিহতের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান এবং উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের জরুরি ব্যয় হিসেবে নিহতের স্বজনদের হাতে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
নিহত মোহাম্মদ শ্রাবন মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের মোহাম্মদ নলি মিয়ার সন্তান। প্রায় ১০ বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার আশায় তিনি জীবিকার সন্ধানে ইরাকের বাগদাদে যান। সম্প্রতি সেখানে সংঘর্ষ চলাকালে মিসাইল হামলায় তিনি প্রাণ হারান। তার এ অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক, এবং সরকার সবসময় প্রবাসী পরিবারের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এর আগে ২৫ মে বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী দাপ্তরিকভাবে মরদেহ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে ২৭ মে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-০৮৪৩ ফ্লাইটে মরদেহটি ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ট্রানজিট শেষে আজ সকালে মরদেহবাহী বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আজই নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



