সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বেশ কিছু বড় শহরে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও তার মিত্ররা। এই হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তারা যুদ্ধের ‘চূড়ান্ত জয়ের’ পথে রয়েছেন। অন্যদিকে. ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং তেহরানই নির্ধারণ করবে।

সোমবার রাতে পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা শহর। তেহরান ছাড়াও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানকে।
ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলা হওয়ায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ও উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি, ইসফাহানের গভর্নরের কার্যালয়েও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলার বিষয়ে তেহরান এখন কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
হোয়াইট হাউস থেকে এক কড়া বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করে, তবে বর্তমানের চেয়ে ২০ গুণ শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
তার দাবি অনুযায়ী, ইরানের ড্রোন তৈরির প্রতিটি গোপন আস্তানা এখন পেন্টাগনের নখদর্পণে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং এই সংঘাত ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংঘাত কখন শেষ হবে তা যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করতে পারে না। যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ বিদেশে রপ্তানি করতে দেয়া হবে না।
পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান শত্রুতার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। তবে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার জানিয়েছে, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরাকের কুর্দিস্তানে অবস্থিত আমিরাতের কনস্যুলেট জেনারেলে ড্রোন হামলা হয়েছে, যাতে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
লেবাননের দক্ষিণে বুর্জ রাহাল ও সিফরা শহরে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৮৬ ছাড়িয়ে গেছে। একটি ড্রোন লেবাননের দক্ষিণে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখন এক সুতোর ওপর ঝুলে আছে। একদিকে ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত জয়ের’ দাবি, অন্যদিকে ইরানের ‘তেল সরবরাহ বন্ধের’ হুমকি, সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


