বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। ঢাকায় ইরান দূতাবাসের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, কৃষি, পরিবহন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক, ইসলামি চিন্তাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
ইরানি রাষ্ট্রদূত জাহনাবাদি বলেন, “ইরান প্রাচীন সভ্যতা ও সমৃদ্ধ জ্ঞান-বিজ্ঞান ইতিহাসের অধিকারী দেশ। জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্যেও আত্মবিশ্বাস ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ক বিশেষ ও মূল্যবান। দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আন্তরিক সহযোগিতা বজায় আছে। ফারসি ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া ও ইসলামি বিশ্বে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।”
রাষ্ট্রদূত জাহনাবাদি অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্পর্কে বলেন, দুই দেশের সক্ষমতা পরস্পর পরিপূরক। বেসরকারি খাতের ভূমিকা জোরদার করা, বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাস্তব সম্ভাবনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, কিন্তু জাতিকে এগিয়ে যেতে কোনও বাধা তৈরি হয়নি। নিজস্ব সক্ষমতা ও মানবসম্পদের ওপর নির্ভর করে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, চিকিৎসা ও অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।”
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আত্মনির্ভরতা, সহনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি ইরানি জাতির মূল বৈশিষ্ট্য। এই অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বাংলাদেশসহ বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করতে আমরা প্রস্তুত।”
তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা হল টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সর্বোত্তম পথ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরান ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনাকে সমঝোতার সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা রাখে।
অনুষ্ঠানে ইরানের জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ ও ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পারস্পরিক সক্ষমতা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে দুই দেশের জনগণের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ইরান হাজার বছরের সভ্যতার ধারক। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পে ইরানের অবদান অনন্য। বাংলাদেশ-ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৭৪ সাল থেকে চলছে এবং ভবিষ্যতেও দুই দেশ একযোগে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগোবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


