ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় সভা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) প্রয়াত আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তবে, নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। ইরান ইন্টারন্যাশনালের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো একই পরিবারের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো, যা ইরানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী এক সিদ্ধান্ত। তবে কে এই মোজতবা খামেনি?
পর্দার আড়ালের এক ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব
৫৫ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘকাল ধরে ইরানের শাসন ব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। যদিও তাকে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা যায় এবং তার কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদও নেই। বছরের পর বছর ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের ভেতরে থেকে তার বাবার প্রধান উপদেষ্টা ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্লেষকরা তার এই অবস্থানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ছেলে আহমেদ খোমেনির ভূমিকার সাথে তুলনা করে থাকেন।
মিডল ইস্ট পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের পরিচালক ড. এরিক ম্যান্ডেল বলেন, মোজতবা দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোতে এক রহস্যময় কিন্তু কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন। তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি পর্দার আড়াল থেকে কাজ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তাকে দমন-পীড়নের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দেখা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে নিবিড় সম্পর্ক
মোজতবার ক্ষমতার একটি বড় উৎস হলো আইআরজিসি’র সাথে তার ঘনিষ্ঠতা। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি ‘হাবিব ব্যাটালিয়নে’ কাজ করেছিলেন। এই ইউনিটের অনেক সহযোদ্ধা পরবর্তীতে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদে আসীন হয়েছেন। এই যুদ্ধকালীন বন্ধুত্বই তাকে নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে একটি স্থায়ী শক্ত ভিত্তি গড়ে দিতে সাহায্য করেছে।
ধর্মীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে ইসলামি আইনশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হতে হয়। তবে মোজতবা ইরানের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মধ্যে গণ্য হন না। তিনি কওমের মাদ্রাসায় রক্ষণশীল পণ্ডিতদের কাছে পড়াশোনা করলেও তার ‘আয়াতুল্লাহ’ পদমর্যাদা নেই এবং তিনি ‘মুজতাহিদ’ নন। এছাড়া সংবিধানের শর্তানুসারে তার কোনো প্রশাসনিক বা নির্বাহী অভিজ্ঞতাও নেই। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐকমত্য হলে অনেক সময় আইনি শর্তের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
একটি বিতর্কিত উত্তরাধিকার
বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থায় এভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরকে অনেকেই ‘বংশতান্ত্রিক শাসন’ হিসেবে দেখছেন। বছরের পর বছর ধরে তার উত্তরাধিকার নিয়ে চলা গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত রাজতন্ত্রের মতোই বংশগত রূপ নিল কি না, তা নিয়ে সমালোচনা তীব্র হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক দশক ধরে পর্দার আড়ালে থাকা মোজতবা এখন দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে এলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


