যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্যেই ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নাম ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে মোজতবার ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। ইরানের ভেতরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে রহস্য আছে। বাবার শাসনামলে তিনি খুব কমই প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বা জনসমক্ষে এসেছেন। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার আড়ালে থাকলেও সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে তাঁর প্রভাব ছিল। বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তাঁকে এই বাহিনীর পছন্দের প্রার্থী হিসেবে ধরা হতো। সোমবার নাম ঘোষণার পরপরই মোজতবাকে পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদা আয়াতুল্লাহ উপাধি দেওয়া হয়।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান ও শিয়া ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর বলেন, মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে, তবে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটি আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখা। পাশাপাশি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তিনি দ্রুত ক্ষমতা সুসংহত এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
ভালি নাসর আরও বলেন, অনেক দিন ধরেই মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে গত দুই বছর ধরে তিনি আলোচনার বাইরে ছিলেন।
নতুন নেতা বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়াত আলি খামেনি ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি চান না তাঁর ছেলেকে উত্তরসূরি করা হোক। কারণ, তিনি এই পদটিকে বংশগত করতে চাননি।
মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করেছে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ। এই পরিষদে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম আছেন। গত মঙ্গলবার এই পরিষদ যখন তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন ইসরায়েল শিয়াদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কোম শহরের একটি ভবনে হামলা চালায়। ঐতিহ্যগতভাবে নতুন নেতা নির্বাচনের ভোট দিতে পরিষদের সদস্যরা সেখানেই একত্রিত হন। তবে ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি তখন খালি ছিল এবং নিরাপত্তার কারণে আলেমরা ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছিলেন।
আলোচনার সময় পরিষদের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ আলেম মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই সংকটময় সময়ে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তাঁর আছে। কিছু আলেম আবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলেকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়াটা উত্তরাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও একটি উপায়।
তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক মেহদি রাহমতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই মুহূর্তে মোজতবাই সবচেয়ে বিচক্ষণ পছন্দ। কারণ নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো পরিচালনা ও সমন্বয়ের বিষয়ে তাঁর ভালো অভিজ্ঞতা আছে। এই দায়িত্ব তিনি আগেও সামলাতেন।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর আলি খামেনি ছাড়াও মোজতবার মা মানসুরেহ, স্ত্রী জাহরা আদেল ও এক ছেলেও নিহত হয়েছেন। এরপর থেকে সর্বোচ্চ নেতা পদের জন্য ইরানের আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফি, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনির নাম শোনা যাচ্ছিল। আরাফি ও খোমেনিকে তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে খোমেনি ইরানের উপেক্ষিত সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক ধারার ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তবে কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, আলি খামেনির ধারা থেকে ভিন্ন পথে হেঁটে মোজতবা খামেনি হয়তো সংস্কারের দিকেও ঝুঁকতে পারেন। তিনি তুলনামূলক তরুণ ও বাস্তববাদী প্রজন্মের একজন আলেম। একইসঙ্গে পারিবারিক পরিচয়ের কারণে কট্টরপন্থী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর কাছে থেকেও তাঁকে তুলনামূলক কম প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


