ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানান, বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তার দেশ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমঝোতামূলক চুক্তির সব বিষয় আগামী তিন মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাস্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় তেহরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি এই অগ্রগতিকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, এতে করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এড়ানো সম্ভব হবে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানান, বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তার দেশ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমঝোতামূলক চুক্তির সব বিষয় আগামী তিন মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের অনুষ্ঠান ফেস দ্য ন্যাশন-এ দেয়া সাক্ষাৎকারে আলবুসাইদি বলেন, “চূড়ান্ত লক্ষ্য যদি হয় ইরান যেন কখনও পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, তবে এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছি।”
তিনি আরো জানান, ইরান শুধু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করবে না তাই নয়, বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনে জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে, যা পুনরায় অস্ত্র-উপযোগী রূপে ফেরানো যাবে না। এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক যাচাই–ব্যবস্থাও থাকবে।
শুক্রবার আলবুসাইদি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে বৈঠক করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে কর্মসূচি চালাচ্ছে। তবে আলবুসাইদি বলেন, “যদি সমৃদ্ধ উপাদান মজুতই করা না যায়, তবে বোমা তৈরির প্রশ্নই ওঠে না।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সময়ে স্বাক্ষরিত এক চুক্তিতে ইরান নিম্নমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সীমাবদ্ধ থাকতে সম্মত হয়েছিল, যা অস্ত্র–উপযোগী মাত্রার অনেক নিচে। পরে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন, নতুন কোনো চুক্তি হলে তা শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আলবুসাইদি বলেন, “আমার বিশ্বাস, ইরান সব বিষয়েই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”
সূত্র : আল জাজিরা, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


