যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবে সদিচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০টি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ করেন, যা তিনি এর আগে রহস্যজনকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে আসা একটি ‘উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ট্রাম্পের মতে, তেহরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে চেয়েছে যে তারা আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক এবং দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। প্রথমে আটটি জাহাজের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ১০টি বিশাল তেলের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অতিক্রম করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু জাহাজ পাকিস্তানের পতাকাবাহী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার যখন প্রথম এই ‘উপহার’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন, তখন বিষয়টি নিয়ে অনেক পর্যবেক্ষকই বিভ্রান্ত ছিলেন। সে সময় তিনি বিস্তারিত কিছু না বললেও একে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট এবং অত্যন্ত মূল্যবান একটি ছাড় হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, তেহরান এমন কিছু করেছে যা কয়েক কোটি ডলার সমমূল্যের একটি বড় উপহারের সমান। বর্তমানে ট্রাম্প ইরানকে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে সব ধরনের বাধা থেকে মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই জাহাজগুলো সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী মূলত বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান ধমনী, যা গত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে তেহরান আংশিক বা পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
এই নৌপথ দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার অর্থ হলো ইরান যুদ্ধের ময়দান থেকে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে অথবা আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে এই ঘোষণা দেন, যা আমেরিকার কঠোর অবস্থানের মুখে ইরানের সুর পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে এক ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে, তবে তেলের জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি ট্রাম্পের দাবির পক্ষেই প্রমাণ দেয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তেলের বাজারের অস্থিরতা কমাতে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট নিরসনে হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসা অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার বিষয় হলো, এই ‘উপহারের’ বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে কি না বা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসে কি না। আপাতত এই ১০টি জাহাজের নিরাপদ চলাচলকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সূত্র: রয়টার্স।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


