যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল শুক্রবার পাকিস্তান সফর করবে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে একই দিনে শাহবাজের সঙ্গে আলাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) জানিয়েছে।
ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাহবাজ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি প্রথম ধাপ। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য স্থায়ী শান্তি… পরশু (শুক্রবার) আমার আমন্ত্রণে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে আসছে। একইভাবে একটি ইরানি প্রতিনিধিদলও পাকিস্তানে আসছে।’
ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান-শাহবাজের আলাপকে ‘উষ্ণ ও আন্তরিক’ উল্লেখ করে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি আনতে পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং পাকিস্তানের জনগণের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।’
এদিকে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ তাঁর টেলিফোন আলাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি ইরানি নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘পাকিস্তানের দিক থেকে ইসলামাবাদে এই সপ্তাহের শেষ দিকে শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য, যাতে যৌথভাবে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।’
এই আলাপের আগে পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদেরসহ তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত এবং তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর। শাহবাজ শরিফ ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ‘সব বিরোধের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য আরও আলোচনা’ এগিয়ে নিতে।
শাহবাজ শরিফ এক্স-এ এক পোস্টে পাকিস্তানের এই কর্মতৎপরতায় পাশে থাকার জন্য চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, কাতার ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের দেশগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি একে ‘সময়োপযোগী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি ‘সংলাপ, সংযম এবং আরও স্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিবেশের সুযোগ তৈরি করেছে।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক পোস্টে বলা হয়, শান্তি আলোচনায় ‘বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন পক্ষগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন জারদারি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জারদারি ওয়াশিংটন, তেহরান, ইসলামাবাদ, চীন, মিসর, তুরস্ক, রাশিয়া, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্বের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ প্রশংসা করেছেন সৌদি আরবের – তাঁর চোখে এই দেশটি উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ তৈরি করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


