তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক। তার মতে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রনীতি ধীরে ধীরে এমনভাবে গড়ে উঠছে যেখানে তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত নতুন “শত্রু” চিহ্নিত করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) আনাদোলু আজান্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েল শত্রু ছাড়া টিকে থাকতে পারে না এবং ভবিষ্যতে তারা তুরস্ককেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে পারে।
হাকান ফিদান আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তার প্রতি সম্মান রেখে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব হামলা গাজায় পরিচালিত ধ্বংসাত্মক অভিযানের মতোই, যেখানে আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনশূন্য করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, সেখানে ইসরায়েলের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে, যা তুরস্কের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে ইরান ইস্যুতে বিশ্ব মনোযোগ থাকায় ইসরায়েল কিছুটা সংযত থাকলেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও বাইরের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি হরমুজ প্রণালি বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সশস্ত্র উত্তেজনা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌচলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া ন্যাটো প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৬ সালের আঙ্কারা শীর্ষ সম্মেলন জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ন্যাটো সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


