ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, কোনোভাবেই দেশের বাইরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠানো যাবে না। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে।

এ নির্দেশনার মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরান নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডার একটি নির্দেশ জারি করেছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তর করা যাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে কোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে তা অন্যত্র স্থানান্তরের শর্তও থাকতে পারে।
এর আগে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-হাদাত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরান তার উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে। ওই প্রতিবেদনে একটি ফাঁস হওয়া নথির কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো একটি প্রস্তাবে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসব্যাপী সামরিক অভিযান চালিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে চলমান সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা তার বেশি সমৃদ্ধি প্রয়োজন হয় বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



