অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণকারী ইরান নারী ফুটবল দলের সদস্যদের নিয়ে শুরু হওয়া নাটকীয়তা যেন থামছেই না। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসায় থেকে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া ৭ জন সদস্যের মধ্যে ৫ জনই ইতিমধ্যে দেশটি ছেড়ে গেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার অস্ট্রেলীয় সরকার নিশ্চিত করেছে যে, গত রবিবার মধ্যরাতের ঠিক আগে দলের পঞ্চম সদস্য অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন।

গত ১০ মার্চ ইরান দলের বাকি সদস্যরা যখন সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন, তখন ২৬ সদস্যের দলের মধ্য থেকে ৬ জন ফুটবলার ও একজন সাপোর্ট স্টাফ- মোট ৭ জন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় মত পরিবর্তনের পালা। গত শনিবার সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ২ জন খেলোয়াড় ও ১ জন সাপোর্ট স্টাফ। সর্বশেষ রবিবার আরও একজন চলে যাওয়ায় বর্তমানে মাত্র ২ জন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
ইরান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা তাদের ‘পরিবার ও মাতৃভূমির উষ্ণ আলিঙ্গনে’ ফিরে আসছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি প্রবাসীরা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের দাবি, তেহরানের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েই ফুটবলাররা নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
ভিক্টোরিয়ার অস্ট্রেলিয়ান-ইরানিয়ান সোসাইটির সহ-সভাপতি কাম্বিজ রাজমারা বলেন, ‘‘আমি তাদের চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অবাক হলেও পুরোপুরি বিস্মিত নই, কারণ তারা কী ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা আমি অনুভব করতে পারি।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ওমেন্স এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল ইরান দল। প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। মূলত এরপরই তারা মানবিক ভিসার আবেদন করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসন মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়েট পুরো পরিস্থিতিকে ‘‘অত্যন্ত জটিল’’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সরকার তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়। যারা এখনো এখানে আছেন, আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’’
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত কিছু ইরানি প্রবাসী অভিযোগ করেছেন যে, যে সাপোর্ট স্টাফ শুরুতে আশ্রয় নিয়ে পরে চলে গেছেন, তিনি খুদে বার্তার মাধ্যমে দলের খেলোয়াড়দের ওপর তেহরানের প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে সরকারিভাবে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন থিসলথওয়েট। তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায় খেলোয়াড়রা পরিবারের পাশাপাশি ক্যানবেরার ইরান দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সিডনি ও মেলবোর্নের কিছু উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে- এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মাঠের লড়াই শেষ হলেও ইরান নারী ফুটবল দলের এই সদস্যদের নিয়ে চলা স্নায়ুযুদ্ধ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির এক বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


