পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬৯ জন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে বিস্ফোরণটি ঘটে, যার ফলে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

২০২৩ সালে পেশোয়ারে মসজিদে হওয়া ভয়াবহ হামলার পর এটিই পাকিস্তানে কোনো মসজিদে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নামাজ চলাকালীন একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটান। বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সূত্র জানান, হামলাকারীকে মসজিদের প্রবেশপথে থামানোর চেষ্টা করা হলে সে তখনই নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরক সক্রিয় করে।
ইসলামাবাদ প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আহত ১৬৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর মসজিদের ভেতরে ও আশপাশে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং জানালার কাচসহ অবকাঠামোর বড় অংশ ভেঙে পড়েছে।
এই হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ইসলামাবাদের ডিস্ট্রিক্ট জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সের গেটে এক আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এর আগে ২০০৮ সালে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ভয়াবহ বোমা হামলায় ৬৩ জন নিহত ও ২৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।
সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


