পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদের পাঁচতারকা ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৬০ জন নিহত হওয়ার পর এটিই রাজধানীতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় হোটেলটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
নগর প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে তারলাই এলাকার ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা নামের একটি শিয়া মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজ চলাকালীন সময়েই বিস্ফোরণটি ঘটে, যা মসজিদজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানায়, হামলাকারী মসজিদের ফটকে পৌঁছালে তাকে থামানোর চেষ্টা করা হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি বিস্ফোরণ ঘটান। এতে মসজিদের ভেতর ও আশপাশে থাকা মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বব্যাপী জঙ্গিগোষ্ঠীর অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, আইএসের এক যোদ্ধা বিস্ফোরকবোঝাই জ্যাকেট বা ভেস্ট ব্যবহার করে এই আত্মঘাতী হামলা চালান। সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হামলার সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লি মোহাম্মদ কাজিম জানান, নামাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড শক্তিশালী একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিকে চিৎকার আর বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
আরেক মুসল্লি ইমরান মাহমুদ বলেন, হামলার সময় হামলাকারী ও তার সম্ভাব্য সহযোগীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তাকর্মীদের গোলাগুলি হয়। আত্মঘাতী হামলাকারী মসজিদের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তখন পেছন থেকে গুলি চালানো হলে তার ঊরুতে গুলি লাগে।
এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৪ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার পাকিস্তানে সুন্নি মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি। শিয়া সম্প্রদায় সেখানে সংখ্যালঘু এবং এর আগেও তারা বারবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) অতীতে শিয়াদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


