ইরানে হামলা পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে একধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনের মতো আজও তেলের অপেক্ষায় রাজধানীর পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, চালকদের ভিড়। না পেলেও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছেন তারা।

জ্বালানি

Advertisement

চালকরা বলছেন, সেহরির পর থেকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। তেলের গাড়ি আসলে তারপর তেল দেওয়া শুরু হবে।

ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ বলছেন, তেলের সরবরাহ ঠিক থাকলেও সংকট আতঙ্কে চাহিদার অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন যানবাহন চালকরা। ফলে দ্রুত সময়ে পাম্পের তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে অধিক তেল নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

রোববার (৮মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা গাড়িগুলো গণভবনের দিকে দীর্ঘ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের সামনেও যানবাহনের তেলের অপেক্ষায় দাঁড় করানো বহু যানবাহন।

তেল নিতে আসা সাজ্জাদ জাগো নিউজকে বলেন, আমি আসছি সেহরির সময়। সেহরি খেয়েই এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রথমে বলেছিল তেল নেই তেল আসবে তারপর দেবে ১২টা বাজবে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি। কিন্তু তেল এখনও আসেনি। ক্যাশিয়ারের সঙ্গে কথা বললাম ক্যাশিয়ার বললো তেলের গাড়ি ডিপোতে গেছে তেল আনতে আসতে ৩টা বাজবে। গাড়ি আসলে তেল দিবে।

তেল নিতে আসা অন্য এক মোটরসাইকেল চালক সম্রাট বলেন, সেহরি করে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি তেল নেই। তেলের গাড়ি তেল আনতে গেছে। কখন পাবো জানি না। আবার ইফতার সেহরি এখানেই কারা লাগতেও পারে।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফাত্তাহ্ আজম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের পাম্পটা বেশি চলে। আমাদের তেলের যে স্টক ছিল সব পাবলিককে দেওয়া শেষ। আজকে গাড়ি তেল আনতে গেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত গাড়ি আসেনি। দুপুরের মধ্যে তেলের গাড়ি চলে আসলে সবাই তেল পাবেন।

তিনি বলেন, যাদের তেল প্রয়োজন ২ লিটার, ৫ লিটার তারা তেল নিচ্ছে ৩০ লিটার ৩৫ লিটার। এই অতিরিক্ত তেল নেওয়ার কারণে ক্রাইসিস বেশি।

নিয়ম অনুযায়ী তেল দিলে চাহিদার অধিক তেল কীভাবে নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা এসে আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে। আমরা সরকারি আমাদের তেল বেশি দিতে হবে। যাদের ১০/২০ লিটার দরকার সেখানে তারা ৩০ লিটার ৪০ লিটার তেল নিচ্ছে।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এক বার্তায় যানবাহনে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম বেধে দিয়েছে৷ সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতি ট্রিপে (একবার) মোটরসাইকেল ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কার্ভাডভ্যান/ কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল নিতে পারবে।

এর আগে বিকেলে পরীবাগের পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যে সংশয়টি জনগণের তৈরি হয়েছে, আমরা সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছি না, কারণ একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে একটা দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে যথেষ্ট মজুত আছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে আমরা কয়েকগুণ বেশি তেল সাপ্লাই দিয়েছি। ক্রেতারা স্বীকার করেছেন, তারা বেশি করে তেল নিচ্ছেন। এই আতঙ্ক দূর করতে হবে। সবাইকে বলতে চাই, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকার যথেষ্ট সচেষ্ট।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এটি একটা চাপ তৈরি করছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমন্বয়ে যেতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো দাম না বাড়াতে। তবে একান্তই না পারলে তখন জনগণের সঙ্গে আমরা তা শেয়ার করবো। পাশাপাশি আমরা দেশবাসীর সমর্থন কামনা করছি।

এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তেলের পাম্প পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনের বেশি তেল না কিনতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

কেআর/এসএনআর

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.