জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওসাকার জরাজীর্ণ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সংস্কারে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এক অজ্ঞাতপরিচয় দাতা। শহরের পুরাতন পাইপলাইন মেরামতের জন্য তিনি ২১ কেজি (৪৬ পাউন্ড) ওজনের স্বর্ণের বার দান করেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫৬ কোটি ইয়েন (প্রায় ৪৪ কোটি টাকা)।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ওসাকার মেয়র হিদেয়ুকি ইয়োকোয়ামা এই বিস্ময়কর অনুদানের তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইয়োকোয়ামা জানান, গত বছরের নভেম্বরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি এই বিশাল পরিমাণ স্বর্ণ দান করেছিলেন। এমন অপ্রত্যাশিত এবং মহামূল্যবান উপহারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেয়র বলেন, পুরাতন জলের পাইপগুলো সংস্কারের জন্য আমাদের বিশাল অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই অনুদান আমাদের জন্য এক বড় আশীর্বাদ। আমি এতটাই অবাক হয়েছি যে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। জানা গেছে, এই একই দাতা এর আগেও ওসাকা পৌরসভার জল প্রকল্পের জন্য ৫ লক্ষ ইয়েন নগদ অর্থ প্রদান করেছিলেন।
কানসাই অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ওসাকায় প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের বসবাস। তবে আধুনিক এই শহরের মাটির নিচের অবকাঠামো এখন বার্ধক্যের কোঠায়। ওসাকা ওয়াটারওয়ার্কস ব্যুরোর রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরেই শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার নিচে পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার অন্তত ৯০টি ঘটনা ঘটেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দানকৃত এই স্বর্ণের অর্থ যথাযথভাবে পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে।
জাপানের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ পানির পাইপের নির্ধারিত ৪০ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জরাজীর্ণ এই অবকাঠামোর কারণে জাপানের বিভিন্ন শহরে বর্তমানে ‘সিঙ্কহোল’ বা মাটির নিচে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়া একটি নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
গত বছর সাইতামা প্রিফেকচারে একটি পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ ফেটে সৃষ্ট সিঙ্কহোলে আস্ত একটি ট্রাক পড়ে চালকের মৃত্যু হলে বিষয়টি দেশজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পর সরকার দেশব্যাপী পাইপলাইন সংস্কারের নির্দেশ দিলেও বাজেটের স্বল্পতার কারণে অনেক শহরের কাজ থমকে ছিল। ওসাকার ক্ষেত্রে এই বিশাল স্বর্ণ দান সেই স্থবিরতা কাটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


